মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের ডিভাইসে অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ, আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ অবস্থান শনাক্তে ঝুঁকি

মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত সেনাদের ডিভাইসে বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্তে বিজ্ঞাপনের তথ্য ব্যবহারের আশঙ্কার পর সামরিক কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। সেনাসদস্যদের ফোন ও কম্পিউটার থেকে মোবাইল অ্যাডভারটাইজিং আইডি বা অ্যাড ট্র্যাকার সুবিধা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের প্রকাশ করা বিভিন্ন বাহিনীর চিঠি এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিনেটর রন ওয়াইডেনকে দেওয়া চিঠিতে মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা দুই মাস আগেই সব কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ করে দিয়েছে। স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডও তাদের উইন্ডোজ ডিভাইসে সুবিধাটি অতি সম্প্রতি বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের উইন্ডোজ কম্পিউটারে ২০২১ সালের আগেই এই সুবিধা বন্ধ করা হয়। আর অ্যান্ড্রেয়েড ও অ্যাপল ডিভাইসে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ডিফল্ট হিসেবে ট্র্যাকারগুলো ডিজেবল রাখা হচ্ছে।

স্মার্টফোন ও কম্পিউটারে থাকা এই বিজ্ঞাপন ট্র্যাকারগুলোর কাজ হলো ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট লোকেশন ও ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ শনাক্ত করা। ডেটা ব্রোকার বা তথ্য কেনাবেচা করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এসব ট্র্যাকার থেকে ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে এবং পরে তা বিক্রি করে।

কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা সেনাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপরও নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিও ব্যবহার করে ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে– এমন আশঙ্কায় সেনাসদস্যদের ফোন জমা নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কেবল ট্র্যাকার বন্ধ করেই পুরো ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়। নেটওয়ার্ক ডেটা বা কারিগরি কৌশল ব্যবহার করে অন্য উপায়েও স্মার্টফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ থেকে যায়।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে যুদ্ধ বলতে নারাজ ভ্যান্স 
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ বলতে নারাজ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার এই সংঘাত কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স এ কথা বলেন। সংঘাত বন্ধের সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, কবে নাগাদ এই সংঘাত শেষ হবে তা ইরানিদের ওপর নির্ভর করছে। তারা ঠিক কবে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে? আমি মনে করি বাস্তবতা হলো, এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।’ ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ভ্যান্স বলেন, মূল সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। এখন আমাদের মনোযোগ হলো, ইরান যেন বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে। আমি একে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে কোনো সরাসরি গুলি বিনিময় চলছে না।

তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ নয়
ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞা অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের এই অভিযানে যোগ দিয়েছে। তবে ইইউ ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এতে সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তারা নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি বা মার্কিন নীতি অনুসরণ করার নীতিগত সিদ্ধান্তও নেয়নি।

হরমুজে সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি দক্ষিণ কোরিয়ার 
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়তার জন্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের জন্য আইনসভার অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর