তিন বছরের মধ্যে অর্গানিক মাংস রপ্তানি করবে বাংলাদেশ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

0
5

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কোনো ধরনের জিনগত পরিবর্তন ছাড়াই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ঘাস ব্যবহার করে উৎপাদিত গরুর মাংস আগামী তিন বছরের মধ্যে রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ নেপিয়ার ঘাস প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ও অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির (সিএসইউ) যৌথভাবে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের অর্থায়নে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব বেড়েছে। জেনেটিক মডিফায়েড খাদ্য বিশ্বকে কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ দিতে পারেনি। এ অবস্থায় গবেষণার মাধ্যমে ১৮ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ নেপিয়ার ঘাস উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা গবাদিপশুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও খরা-সহিষ্ণু ঘাস উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি। এতে কম খরচে উন্নতমানের প্রাণিখাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। ফলে মাংস উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাংসের দাম তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে আনা যাবে।

গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের কল্যাণে স্বাধীনভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে মাংস উৎপাদনের খরচও কমবে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে মাংস কিনতে পারবেন। তিনি গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার।

ব্রাজিলের মাংস আমদানির বিষয়ে লিখিত প্রস্তাবনা চাইলেন মন্ত্রী

এদিকে গতকাল সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিখাতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানির প্রসঙ্গ উঠলে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সংরক্ষণব্যবস্থা ও কোল্ড চেইন আরও উন্নত করা জরুরি। তিনি ব্রাজিলকে বাংলাদেশে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বৈঠকে স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) সার্টিফিকেশনসহ প্রাণিস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান নিয়েও মতবিনিময় হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here