জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম গভর্নরের অযোগ্যতা ও সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপে মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমানতকারীরা সর্বস্ব হারিয়ে হাহাকার করছে। সরকার সংকট নিরসন না করে ব্যাংকে নিজের লোক বসিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।
শনিবার বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি হলো ব্যাংকিং সেক্টর। ফ্যাসিস্ট আমলে লুটপাট হয়ে যাওয়া ব্যাংক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের দিকে নজর না দিয়ে সরকার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। অনেক ব্যাংক ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। চরম তারল্য সংকটে ভুগছে। খেলাপি ঋণ দিনদিন বাড়ছে। যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর মহাদুর্যোগ সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স আহরণে, আমদানি-রপ্তানিতে ও শিল্প-বাণিজ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক নিয়েও চলছে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। বৈধ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জোর করে পদচ্যুত করা হচ্ছে। অযোগ্যদের পর্ষদে বসিয়ে সফল ব্যাংকটিকে স্থবির করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তিন কোটি আমানতকারী এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮০ লাখ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীকে চরম হুমকিতে ফেলা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকিং ধ্বংস হলে পুরো ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হবে বলে সরকারকে সতর্ক করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই মব তৈরি করে দলের অনুগত এবং অনুকম্পা নিয়ে ঋণ পুনঃতপশিলকারী মধ্যমসারির ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ করেছে। অভিলম্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পেশাদার ব্যক্তি হিসেবে গভর্নর নিয়োগ দিতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।




