‘খাবার পানি নেই, জমে থাকা কাদামাখা পানি পান করতে হচ্ছে’

0
7

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জন গত তিনদিন ধরে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঝড়-বৃষ্টি, প্রচণ্ড রোদ এবং ফসলি মাঠের কাদা-পানির মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের মধ্যে অসুস্থতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। শুক্রবার ভোরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবির বাধার মুখে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নেন।

পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সর্বশেষ বৈঠকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে বিজিবি জানিয়েছে, রাতের আঁধারে পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রকৃত নাগরিকত্ব যাচাই করে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সমাধান হওয়া উচিত।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নারী ও শিশুসহ ওই দুই পরিবারের সদস্যরা প্লাস্টিকের আশ্রয়ে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। কাদা-পানির মধ্যে তাদের বসবাস করতে হচ্ছে। অনেকে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং খাদ্য ও পানির অভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম বলেন, ‘কাদা-পানির মধ্যেই দুইটা রাত পার হয়ে গেল। রাতে বৃষ্টি আর দিনে প্রচন্ড রোদ আর গরম থাকে। এখানে ঠিকমতো খাবার নেই, খাবার পানি নেই। মাঝেমধ্যে ফসলের মাঠে জমে থাকা কাদামাখা পানি পান করতে হচ্ছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়না। বিজিবি কিছু শুকনো খাবার ও পানি দিলেও বেঁচে থাকার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

স্থানীয় হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুরে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে এভাবে মানুষকে সীমান্তে পুশইন করা অমানবিক। তিনি দ্রুত দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।

বড়বাড়ী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, সীমান্তে চলমান পরিস্থিতির কারণে স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নারী ও শিশুরা কাদা-পানির মধ্যে মানবেতর অবস্থায় থাকলেও তাদের সহায়তা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নীলফামারীর বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পতাকা বৈঠক করা হয়েছে এবং বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here