মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঝড়ে অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর গাছগুলো সরিয়ে নিলে সন্ধ্যায় যান চলাচল শুরু হয়। তবে দীর্ঘ যানজটের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঝড় শুরু হলে গাছগুলো উপড়ে পড়ে।
গজারিয়া উপজেলার দড়ি বাউশিয়া এলাকা থেকে বাউশিয়া পাখির মোড় পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ উপড়ে পড়ে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে মহাসড়কের উভয়পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশুসহ দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন কর্মীরা।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি এবং গাছ উপড়ে মহাসড়কে পড়ে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয়পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ছোট-বড় যানবাহন আটকা পড়ে। এতে মেঘনা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন স্থির দাঁড়িয়ে আছে। একটু পর পর বড় গাছ সড়কে উপড়ে পড়ে আছে। সেগুলো সরিয়ে নিতে কাজ করছেন পুলিশ সদস্য, পল্লী বিদ্যুৎ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। মেঘনা থেকে দাউদকান্দিগামী একটি বাসের যাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, মেঘনা থেকে দাউদকান্দি যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। সেখানে দেড় ঘণ্টা বাসে বসে আছি। তিশা পরিবহনের বাসচালক সুমন মিয়া বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঝড় শুরু হলে চোখের সামনেই একটি বিশাল গাছ রাস্তার ওপর পড়ে যায়। কোনো রকমে ব্রেক করে গাড়ি থামিয়েছি। আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। কিন্তু তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একই জায়গায় আটকে আছি।
চট্টগ্রামগামী সেন্টমার্টিন পরিবহনের যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বলেন, জরুরি কাজে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু গজারিয়ায় এসে পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বাসের ভেতরে গরমে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। আশপাশে প্রয়োজনীয় কিছু পাওয়ারও সুযোগ নেই।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার কর্মীরা বাউশিয়া ও মানাবেরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তিনি আরও জানান, করাত ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে রাস্তার ওপর পড়ে থাকা গাছগুলো কেটে দুই-আড়াই ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়। সন্ধ্যার পরপরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি কামাল আখন্দ বলেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের খুঁটি ও অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে মহাসড়কের ওপর পড়ে যায়। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী ও গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় গাছ ও খুঁটি অপসারণ করা হয়।




