নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান রাস্তা বঙ্গবন্ধু সড়ক। প্রতিদিন এতে যানজট লেগে থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই নগরবাসীর দাবি ছিল বিকল্প সড়ক নির্মাণের। সিটি করপোরেশন আগে কিছুটা কাজও করে রেখেছিল। কিন্তু নগরীর চাষাঢ়া মোড়ে গিয়ে রাস্তাটি আটকে ছিল। এবার সেই বিকল্প রাস্তা নিয়ে জোরেশোরে নেমেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চাষাঢ়ার মহিলা কলেজ প্রান্তে এই রাস্তার মুখ দখল করে রাখা স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। দুপুরেই শুরু হয় রাস্তার নির্মাণ কাজ।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই ২নং রেলগেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রিকশা চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণ সম্ভব হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এই সড়ক ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে।
বঙ্গবন্ধু সড়কের বিকল্প হিসেবে ২নং রেলগেট থেকে চাষাঢ়া রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের পূর্ব পাশ দিয়ে বিকল্প সড়কের দাবি জানিয়ে আসছিল নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০০৭ সালে এ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছু অংশ আরসিসি ঢালাই দেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু পরে রেলওয়ের বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াৎ হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে যোগ দিয়েই এই বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ১০টায় চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন। সব কটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পরে দুপুরে শুরু হয়ে যায় রাস্তার নির্মাণকাজ।
সেখানে কাজের তদারকি করছিলেন সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেন। তিনি বলেন, সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে আমরা রাস্তাটি আপাতত নির্মাণ করে দিচ্ছি। গত শনিবারের মধ্যে এ রাস্তা দিয়ে ইনশাআল্লাহ রিকশা চলতে পারবে। এর মুখটি হবে ২০ ফুটের মতো। পরে পর্যায়ক্রমে রাস্তাটির উন্নতি করা হবে। তিনি জানান, এটি চালু হলে বঙ্গবন্ধু সড়কের যানজট অনেক কমে যাবে। রিকশাগুলো বিকল্প পথ ধরে বিভিন্ন মহল্লায় যেতে পারবে।
তবে রাস্তা নির্মাণে ব্যক্তিগত ২ শতাংশ জমিও চলে গেছে বলে দাবি করেন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন। সিটি করপোরেশনের চিফ অফিসার নূর কুতুবুল আলম বলেন, তাকে দাবির সপক্ষে কাগজপত্র সিটি করপোরেশনে দিতে বলা হয়েছে। এটি আমাদের আইন কর্মকর্তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
বিকল্প রাস্তা নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াৎ হোসেনকে ধন্যবান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দীপু বলেন, এ রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারায়ণগঞ্জের জমি অনেক মূল্যবান। এ জমি দখলে নিতে নানা মহল তৎপর থাকে। কিন্তু সেসব বাধা ডিঙ্গিয়ে তিনি নগরবাসীর স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছেন।
গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, সাবেক মেয়র আইভী রাস্তার কাজটি শুরু করেছিলেন। সাখাওয়াৎ হোসেন কাজটির পূর্ণতা দিচ্ছেন। এটি অত্যন্ত পজিটিভ উদাহরণ। সাখাওয়াৎ হোসেন নিঃসন্দেহে অন্য কোনো বিষয়ের দিকে না তাকিয়ে জনগণের স্বার্থে কাজ করছেন।
২ নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার। এই অল্প সড়কে বিপুল পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে। ঢাকায় না গিয়ে পদ্মা সেতুতে যেতে চট্টগ্রামের দিক থেকে আসা যানবাহন নারায়ণগঞ্জ শহর ব্যবহার করে। ২ নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া ও চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটী নারায়ণগঞ্জের এই অংশটি আঞ্চলিক মহাসড়কের অংশ হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে শহরে।




