অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে, কাঁদলেন ভোজিনহা

0
10

আটলান্টায় স্পেনের আক্রমণভাগকে একাই রুখে দেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী বুড়ো গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছেন গোলবারের নিচে অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে এমন অর্জনের পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করেছিলেন ভোজিনহা। ঐতিহাসিক মুহূর্তে পাশে ছিলেন না মা, তাইতো কেপ ভার্দের এই নায়কের কান্না। জানালেন, অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে যখন কথা বলছিলেন, তখন চোখ জোড়া তখনও ভেজা ভোজিনহার। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, কেঁদে ফেলেছিলাম। ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে তারা আমার পাশে নেই, কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আর আমার মা-ও এখানে আসতে পারেননি। মার্কিন ভিসার জটিলতা এবং এর পেছনে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন করতে পারিনি।’

মাঠে কেপ ভার্দের এই বুড়ো দেয়ালের বীরত্ব আর ম্যাচ শেষে তার এই কান্না ছুঁয়ে গেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। প্রশংসায় ভাসছেন এই ফুটবলার। বিবিসির ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন লিখেছেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়েই রূপ ছড়িয়েছেন ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে তিনি যা দেখালেন, তা স্রেফ অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে মাঠের সব ক্যামেরা ছিল তার দিকেই। সতীর্থরা আঙুল তুলে বারবার বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন, কে তাদের আসল নায়ক।’

সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সনও কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষককে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন। ভোজিনহার আবেগের গভীরতা ছুঁয়ে গেছে তাকেও। ডিক্সন বলেন, ‘আমি নিজেই ম্যাচ শেষে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। স্পেনের বিপক্ষে এই একটি পয়েন্ট পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা কেপ ভার্দের ছিল। আজকের রাতটা স্রেফ তাদেরই। আর ভোজিনহাকে ওভাবে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরই প্রায় কান্না চলে আসছিল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here