জোর করে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা মূল্যস্ফীতি উস্কে দেবে

0
6

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দরকার আছে, তবে তার আগে স্থিতিশীলতা ফেরানো জরুরি। চার বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। চাপের মধ্যে আছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাজেটের বড় একটি অংশ সুদ পরিশোধে খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে জোর করে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করলে মূল্যস্ফীতিকে আরও উস্কে দেবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড) আয়োজিত সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এমন পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। ‘বাজেট ২০২৭: সংস্কারের সংকেত, সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ ও বাস্তবায়নের ঝুঁকি’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাজেটে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তার চেয়ে অন্তত এক লাখ কোটি টাকার আয় কম হবে। বিদেশি ঋণ ও অনুদান কম থাকবে ৫০ হাজার কোটি টাকার। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ উৎসের উচ্চ সুদের ঋণে জোর দিতে হবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ আরও বাড়ালে সুদ ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত ঋণ সংকুচিত হবে। যে কয়েকটি ব্যাংক ঋণ দিতে পারছে তারা উচ্চ সুদ ও ঝুঁকি বিবেচনায় এখন সরকারকেই ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে তা সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। করোনার সময়ের মতো অপব্যবহার হলে মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, এবারের বাজেটে অনেক ভালো উদ্যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা সহজীকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো। ফ্যামিলি কার্ড সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে। এটি জনপ্রিয় উদ্যোগ। তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে অর্থাৎ প্রকৃত ব্যক্তিরা না পেলে অজনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সরকারের প্রতিশ্রুত ৪১ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলে দারিদ্র্যের হার এক ধাক্কায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশে নামবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুই কোটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হলে দারিদ্র্যের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা বলছি সবার আগে বাংলাদেশ। এটি সবার জন্য এবং সবাইকে নিয়ে হবে। এই বিষয় মাথায় রেখে বাজেটে পাঁচটি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদি করকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। লালফিতার দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতি কমানোর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বাজেটে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রেখে সুদহার কমানোর জন্য মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার বৈশ্বিক দায়দেনা বাড়িয়ে উন্নয়নের গল্প শুনিয়েছে। ঋণের বোঝা বাড়ায়ে দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল রেখে গেছে। এখান থেকে বর্তমান সরকারই দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, দক্ষ মানুষ তৈরির জন্য শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাকের বাইরে আমাদের কর্মসংস্থানের তেমন কোনো বিকল্প গড়ে ওঠেনি। যেভাবে এআইর প্রসার হচ্ছে আগামীতে যারা কর্মসংস্থান হারাবে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, করপোরেট কর ভিয়েতনামে ২০ শতাংশ অথচ বাংলাদেশে ২৭ শতাংশ। এটি কমাতে হবে। রপ্তানিতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য ৫০ শতাংশে নামাতে হবে।
র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here