ইতিহাসের দুয়ারে স্কালোনি

0
8

ফুটবল একটি জাতিকে আনন্দ-বেদনার আবেগে ভাসায়। ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করতে হয় অনেকটা ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’-এ বসে। যে দল নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ বেশি, কোচদের টিকে থাকা তত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতীয় দল তো বটেই, এমনকি শীর্ষ সারির ক্লাবগুলোতেও দীর্ঘ মেয়াদে কোচের দায়িত্ব পালনে রাজকপালই লাগে বটে। খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স– কোথাও পান থেকে চুন খসলেই যেন রক্ষা নেই। সবার আগে কোচকে শুনতে হয়, ‘ইউ ফায়ারড।’ সে ক্ষেত্রে ফুটবলে জীবনের সুখ খোঁজা আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে সেঞ্চুরির মাইলফলক লিওনেল স্কালোনির জন্য অসাধারণ এক অর্জন হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার হার্ডরক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ালেই জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচে দায়িত্ব পালনকারী কোচদের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাবেন স্কালোনি। ইতিহাস গড়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে স্কালোনির কেমন অনুভূতি হচ্ছে? শনিবার রাতে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম দিনে যেমনটি ছিলাম, আজও ঠিক তেমনিই আছি।’ দুর্বল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে নির্ভার কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ জানান, (দলের) প্রতিটি ম্যাচ চলাকালেই মনের ভেতর একটা অনুভূতি কাজ করে। পেটের ভেতর সব সময়ই এক ধরনের টান বা উত্তেজনা অনুভব করেন। আর আসলে সহজ ম্যাচ বলেও কিছু নেই।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তে দলের বাজে পারফরম্যান্সে কোচ জর্জ সাম্পাওলি চাকরি হারালে অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচের দায়িত্ব পান সাম্পাওলির সহকারী স্কালোনি। এরপর দলের খোলনলচে বদলে দিয়ে মাত্র চার বছরেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা দলে পরিণত করেন জাতীয় দলের সাবেক এই ডিফেন্ডার। যুগসেরা তারকা লিওনেল মেসিকে সঙ্গী করে দলকে একের পর এক বিজয়ে নেতৃত্ব দেন স্কালোনি। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে বড় আসরে আলবিসেলেস্তেদের ২৮ বছরের শিরোপা-খরার অবসান ঘটান। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যাক টু ব্যাক কোপা শিরোপা এনে দেন। একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফিনালিসিমা’ ট্রফিও জেতে আলবিসেলেস্তেরা। তাঁর অধীনে ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা।

পরিসংখ্যান বলছে, স্কালোনির আগে মাত্র একজন কোচ ডাগআউট থেকে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার সেঞ্চুরি গড়েছেন। তিনি হলেন গিলের্মো স্তেবিলে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের তোলার নায়ক গিলের্মো। যিনি ফাইনাল ম্যাচে গোল করাসহ ওই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। এই সেন্টার ফরোয়ার্ডই ১৯৩৯ সালে আলবিসেলেস্তে দলের কোচের দায়িত্ব পান। টানা ২১ বছর দায়িত্ব পালনকালে ১২৭টি ম্যাচে ডাগআউটে থেকে আর্জেন্টিনাকে পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে না পারলেও ছয়বার মহাদেশীয় আসর সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতান।

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে কোচ স্কালোনির দায়িত্বকাল অন্যতম স্বর্ণযুগ হিসেবে এরই মধ্যে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ পর্যন্ত ৯৯ ম্যাচে ডাগআউটে থেকে দলকে ৭২ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৮ ম্যাচ ড্র করেছেন। আর পরাজয় দেখেছেন হাতের আঙুল গুনে মাত্র ৯ বার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here