চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৪৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ মাসে গড়ে ৭ দশমিক ৩৩টি। বিপরীতে ২০২৫ সালের পুরো বছরে ৬৬টি হত্যাকাণ্ডের হিসাবে মাসিক গড় ছিল ৫ দশমিক ৫টি। একই সময়ে জমি দখল বা দখলচেষ্টার ঘটনাও মাসিক গড়ে বেড়েছে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরিসংখ্যানে সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় বাড়লেও নারী নির্যাতন, উপাসনালয়ে হামলা এবং বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মাসিক গড় কমেছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, কিছু সূচকে ঘটনার সংখ্যা কমলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতা দূর হয়নি। অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ। উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, রঞ্জন কর্মকার, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে মনিন্দ্র কুমার নাথ জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪০টি হত্যাকাণ্ডে ৪৪ জন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। গত বছর হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ৬৬টি। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মাসিক গড় হত্যাকাণ্ড ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা গণধর্ষণের পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড়ে যা শূন্য দশমিক ৮৩টি। ২০২৫ সালে এ ধরনের ২৮টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ২ দশমিক ৩৩টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মাসিক গড় প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, পূজামণ্ডপে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ১৫টি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড় ২ দশমিক ৫টি। ২০২৫ সালে এ ধরনের ৯৫টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৯২টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
তবে জমি দখল বা দখলচেষ্টার ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ ধরনের ১৫টি ঘটনার মাসিক গড় ২ দশমিক ৫টি, যেখানে ২০২৫ সালে ২১টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ১ দশমিক ৭৫টি। অর্থাৎ মাসিক গড়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।
মনিন্দ্র কুমার নাথ জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও প্রতিমায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৪৭টি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড় ৭ দশমিক ৮৩টি। গত বছর এ ধরনের ১০২টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ৮ দশমিক ৫টি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও কিছুটা কমেছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অপহরণ, চাঁদাবাজি, নিখোঁজ ও নির্যাতনের অভিযোগ, কর্মস্থলে বৈষম্য এবং জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগসহ বিভিন্ন ধরনের আরও কয়েক ডজন ঘটনার তথ্যও তুলে ধরে সংগঠনটি।




