বৃষ্টির অজুহাতে হু হু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম। চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমায় মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে।
কিছু অঞ্চলে বন্যার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব কারণে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। সে জন্য দাম বাড়ছে। তারা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং আমদানি না করলে দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই। গতকাল রোববার রাজধানীর তেজগাঁও কলোনি, মগবাজার ও কারওয়ানবাজার ঘুরে মরিচের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীদের এই অজুহাতকে বিশ্বাস করতে রাজি নন ভোক্তারা। তাদের দাবি, বৃষ্টির অজুহাতে সরবরাহ ঘাটতি দেখিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। সরকারের উচিত বাজারে নিয়মিত নজরদারি চালানো।
চার-পাঁচ দিন আগে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায়। সেই হিসাবে কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। বাজারভেদে দামে ভিন্নতা দেখা গেছে। মগবাজার, কলোনি বাজারের মতো এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোতে কেজি বিক্রি হয়েছে কমবেশি ৩০০ টাকা দরে। তবে কারওয়ান বাজারে বিক্রি হয়েছে কিছুটা কমে। খুচরার পাশাপাশি পাইকারি বাজার থাকায় এখানে মানভেদে প্রতি কেজি ২৫০, ২৬০ ও ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগের বাজারের চিত্র বিশ্লষণ করলে দেখা যায়, প্রায় পাঁচগুণ দাম বেড়েছে মরিচের। রাজধানীর খুচরা বাজারে মাসখানেক আগে মরিচ বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে।
কলোনি বাজারের সবজি বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন সমকালকে বলেন, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি-বাদল হচ্ছে। এ কারণে বাজারে মরিচ কম আসছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরায় বেড়েছে।
কারওয়ানবাজারে পাইকারি ও খুচরা উভয় পদ্ধতিতে মরচি বিক্রি করেন তরিকুল হাসান। হঠাৎ এভাবে দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বিস্তর বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, মানিকগঞ্জসহ কিছু এলাকা থেকে মরিচ আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কুষ্টিয়া, খুলনা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী অঞ্চলের মরিচ আসছে। এসব এলাকায়ও অনেক ক্ষেতে গাছ পচে মরে গেছে। অতিবৃষ্টিতে কিছু গাছের ফুল ঝরে গেছে। ফলে মোকামেই মরিচের সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে মরিচের সরবরাহ কমে গেছে।
এই ব্যবসায়ী বলেন, যেখানে দৈনিক ১০ গাড়ি (ট্রাক) মরিচ আসত, সেখানে এখন আট গাড়ি আসে। তাহলে দুই গাড়ির তো ঘাটতি থাকে। এ সময় ভারত থেকে মরিচ আমদানি হওয়ার কথা কিন্তু হচ্ছে না। এ কারণে বাজার দর বাড়তি।




