‘রক্তিম’ আন্দোলনে ছাত্র-জনতা, পতনের মুখে সরকার

0
4

ফেসবুক প্রোফাইল ছবি লাল করে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই অসংখ্য মানুষ সরকারের চালানো হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করেন। বিপরীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থকরা সরকার ঘোষিত শোক পালনে প্রোফাইল ছবি কালো করেন। সেদিন ইন্টারনেট দুনিয়ায় লালের তুলনায় কালো ছিল সামান্য। এতে স্পষ্ট হয়, ক্ষমতা ধরে রাখার মতো জনসমর্থন আর নেই আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর সরকারের পতন হয় মাত্র ৬ দিনে।

আন্দোলন দমাতে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনার সরকার নিহতদের স্মরণে ৩০ জুলাই দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। তবে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা এটিকে সরকারের ‘প্রহসন’ ও ‘লোক দেখানো কর্মসূচি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে জিম্মি করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতি পড়ানোর ন্যক্কারজনক ঘটনার পর সাধারণ মানুষ সরকারের এই শোকের ডাকে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘লাল প্রোফাইল’ বা রক্তিম আন্দোলন শুধু একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল না। এটি ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

ফেসবুকজুড়ে লাল রঙের ঢেউ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে লাল রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্ত করেন। অনেকেই চোখে ও মুখে লাল কাপড় বাঁধা ছবি পোস্ট করে সরকারের বুলেটের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ
ভার্চুয়াল প্রতিবাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকের অপেক্ষায় না থেকে ছাত্র-জনতা যে যার অবস্থান থেকে ফের রাজপথে প্রতিবাদ শুরু করে। ৩০ জুলাই দেশের শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজপথে অবস্থান নেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি অফিসে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে এক রিট আবেদনের শুনানি হয় এদিন। শুনানিতে আদালত ডিবির ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। বলেন, ‘ডিবি অফিসে নিয়ে কাকে খাওয়ালেন, তা আবার টেলিভিশনে দেখালেন। জাতিকে নিয়ে এভাবে মশকরা করবেন না।’

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ প্রকাশ
বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নিন্দা উদ্বেগের খবর আসে ৩০ জুলাই। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়ে সব হত্যার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে, দেশের অভ্যন্তরেও ৭৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে যৌথ বিবৃতি দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here