সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

0
3

সময়টা ভালো যাচ্ছে না নেইমারের। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে সব ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা থেমে যায় শেষ ষোলোতে। জাতীয় দলে ভরাডুবির পর ক্লাব সান্তোসে ফিরেও স্বস্তিতে নেই নেইমার। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকার। একই সঙ্গে ক্রীড়া, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য বজায় থাকায় তাঁর চুক্তি নবায়নের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

একাধিক ব্রাজিলীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফরোয়ার্ডের আচরণ, দৈনন্দিন মেলামেশা এবং ক্লাবের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বিগত কয়েক মাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর তাঁর চুক্তির সময় বাড়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সৌদি ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে পাট চুকিয়ে ২০২৫ সালে নেইমার যোগ দেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসে। সেখানে এক বছরের মধ্যেই ঝামেলায় পড়েছেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম জি গ্লোবোর তথ্য মতে, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এমন কিছু আচরণ নিয়ে ক্লাবের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে; যা দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করেছে। গণমাধ্যমটি জানায়, ‘প্রতিদিনের অনুশীলনে এই খেলোয়াড়কে সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ তাঁর কিছু স্বার্থপর মানসিকতা ও আচরণ সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও বোর্ডকে বিরক্ত করছে। মে মাসে অনুশীলনের সময় রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।’

উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম একটি ঘটনা ঘটে ‘কোপা সুদামেরিকানা’ চলাকালীন। দলটি যখন একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ভেনেজুয়েলায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখন এই তারকাকে সাও পাওলোতে একটি পোকার টুর্নামেন্টে দেখা যায়। পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এই সমালোচনার জবাব দেন এবং চাপেকোয়েন্সের বিরুদ্ধে গোল করার পর তাস বাটানোর ভঙ্গি করে উদযাপন এবং ভক্তদের উদ্দেশে রসিকতা করে গোলটি উৎসর্গ করেন। বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ তাঁর ব্যক্তিগত মানসিক চাপের কারণেও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

জি গ্লোবো তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে নেইমার প্রতিদিনের এই বাঁধাধরা রুটিনে ‘বিরক্ত’ এবং তিনি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন। তবে বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁর বাবা খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, উভয় পক্ষই চুক্তি বাড়ানোর বিষয়টিকে অসম্ভব বলে মনে করছে। তবে এই মতপার্থক্য শুধু খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নেইমার ও তাঁর বাবা সান্তোসের বর্তমান পরিকাঠামো এবং দলের সামগ্রিক মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ দলটি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো রেলিগেশন (অবনমন) এড়ানোর লড়াই চালাচ্ছে।’ এই ফরোয়ার্ড নিজে অর্থায়ন করে প্রশিক্ষণ মাঠ ও ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের কিছু উন্নয়নমূলক কাজও করিয়েছেন। আর্থিক বিষয়গুলোও বিবাদের অন্যতম একটি কারণ।

সূত্র অনুযায়ী, খেলোয়াড় হিসেবে নেইমারের পাওনা ১৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বকেয়া রয়েছে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রাও তিন মাস ধরে ইমেজ রাইটসের পেমেন্ট পাননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here