জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৪ আগস্টের ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সিরাজগঞ্জে এখনও কাটেনি শোকের ছায়া, মেলেনি প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার। ২০২৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও ছাত্র-জনতার ত্রিমুখী সংঘর্ষে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষসহ অনেকে প্রাণ হারান। ঘটনার দুই বছর পার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি খোয়া যাওয়া সব বৈধ অস্ত্র এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে মামলার প্রধান প্রধান এজাহারভুক্ত আসামিরা।
এসব ঘটনায় পরে সরকারি গেজেটে ১৩ শহীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন এনায়েতপুরের কলেজ শিক্ষার্থী শিহাব হোসেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন এবং তাঁত শ্রমিক ইয়াহিয়া আলীসহ একাধিক বীর আন্দোলনকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৪ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় দায়ের হওয়া ৯টি মামলার মধ্যে আলোচিত যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু, সুমন শেখ ও আব্দুল লতিফ হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি ছয়টি মামলা এখনও তদন্তাধীন।
সংঘর্ষের দুই বছর অতিবাহিত হলেও চিকিৎসাধীন আহতদের অনেকে স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে স্বজনহারা পরিবারগুলোর মাঝে এখনও চলছে কান্নার রোল। শহীদ পরিবারের একটাই দাবি– প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এদিকে ১৪ পুলিশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এনায়েতপুর থানায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এনায়েতপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, বেলকুচি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল হাসান এই মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে গেজেটভুক্ত ১৩ শহীদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে আজ (৫ আগস্ট) নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বাজার স্টেশন স্বাধীনতা স্কয়ারের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও শহীদ স্বজনের সংবর্ধনা প্রদান, চিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্মারক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।




