সরকারের ৬ মাস ব্যক্তির বৃত্ত থেকে জনগণের আঙিনায় ফিরছে সরকার

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার। ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসে। গণতান্ত্রিক দেশ গঠনে দলটির পক্ষ থেকে আগে থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল; এর সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেওয়া হয় নানা প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় আসার পর এখন কিছু অর্জনের সঙ্গে সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে বিএনপিকে।

বিগত দিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করে নতুন উদ্যমে শুরু করতে হয়েছে সরকারকে। এসব বিষয় নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে গত ছয় মাসের অর্জন তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ১৮০ দিন পার হয়েছে। এই সময়ে কৃষি থেকে অর্থনীতি, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা থেকে পররাষ্ট্রনীতি– বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করছে সরকার। কোথাও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, কোথাও চলছে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা।

সরকার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম ছয় মাসকে শুধু সময়ের হিসাবে দেখছেন না তারা। এই সময়কে রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি তৈরির সময় হিসেবে দেখানো হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ছাড়াও অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে মিতব্যয়িতা– এসব বিষয়কে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে ভিন্নতাও রয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই জ্বালানি খাতে এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। যদিও জ্বালানি সরবরাহে বাধার জন্য মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ছাড়াও গত সরকারের আমলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান এবং ভুল নীতির কারণকে দায়ী করছে সরকার। নির্বিচারে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও জবাবদিহিতা না থাকায় বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থাপনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছয় মাসে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগও দেখা যায়নি। বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সম্প্রতি নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী সমকালকে বলেন, ছয় মাসে বিএনপি সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। ছয় মাসের যে লক্ষ্য, সে লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সবই পূরণ হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে। পরবর্তী ছয় মাসে সরকারের কর্মসূচি আরও জোরালো ও দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হবে।

ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রকে সামনে আনার চেষ্টা

সরকারের ছয় মাসের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি টানানোর প্রচলন বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো, প্রটোকল সরল করা এবং সরকারি ব্যয়ে সংযমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং জ্বালানি, চালক ও বাসভবনের কর্মীদের ব্যয় নিজেই বহন করছেন। তাঁর মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

মানুষের দোরগোড়ায় জনকল্যাণ

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এসেছে নতুন মাত্রা। কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, প্রবাসী, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্ড ও সহায়তা কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের সহজ ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষকদের সহায়তা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

গ্যাস অনুসন্ধানে উদ্যোগ বৃদ্ধি 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের বড় কর্মসূচি নিয়েছে। এর আগে পরিকল্পনা থাকলেও অনুসন্ধান কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি বন্ধ ছিল। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি গ্যাস অনুসন্ধান চালাচ্ছে না। তবে বর্তমান সরকারের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুযায়ী আবারও ২৬টি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি

বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে অধিকতর সমন্বয়, নীতিগত সামঞ্জস্য এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ ও একীভূত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপে বিডা, বেজা ও পিপিপিএকে একীভূত করে একটি একক শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

কৃষিতে স্বস্তির বার্তা

কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন বলে সরকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তায়ও বড় মজুতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত থাকার দাবি করা হয়েছে।

বাজেটে বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি

সরকারের প্রথম ছয় মাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দলিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। আয়করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাচার করে বিদেশে নেওয়া অর্থ ফেরাতে বিভিন্ন দেশে আনুষ্ঠানিক আইনি সহায়তার আবেদনের কথা জানানো হয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা 

সরকার দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বন্যা ও মরূকরণ প্রতিরোধ নিশ্চিতকল্পে পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে। প্রকল্পের আওতায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ, নদীতীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ এবং প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভারতের ওপর একক নির্ভরতার পরিবর্তে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে গণভবনকে রূপান্তরিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’।

শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছে। ডিজিটাল ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই, শিক্ষক উপস্থিতি ট্র্যাকিং এবং স্কুল পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ানোর কাজও এগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া হয়েছে ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ প্রকল্প।

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরানোর চেষ্টা

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বড় লক্ষ্য মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ এবং এর ৮০ শতাংশ নারী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে টিকার মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। অপুষ্টি দূরীকরণে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

আইনশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান

সরকারের প্রথম ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে নেওয়া হয়েছে পুলিশ সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’– এই নীতির পাশাপাশি কৌশলগত ভারসাম্যকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ। চীন ও মালয়েশিয়া সফরকে সরকারের অন্যতম কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি 

প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘের প্রধান নীতিনির্ধারণী সংস্থা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে আসছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের ২ জুন নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও নৈতিক কূটনীতির নতুন অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে। তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারকেও অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার নতুন দায়িত্বের মুখোমুখি করবে।

আরও কিছু উদ্যোগ

এসবের বাইরে সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান, কারাগার ও আটককেন্দ্রে মানবাধিকার তদারকিতে নতুন বিভাগ গঠনের উদ্যোগ, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক (সম্মান) পর্যায় পর্যন্ত বিনা টিউশন ফি সুবিধা সম্প্রসারণ করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করপোরেট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া; ক্যাডেট কলেজের আদলে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ, শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা উন্নয়নের উদ্যোগ, পুঁজিবাজার সংস্কার ও আস্থা ফেরাতে বহুমুখী উদ্যোগ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সম্মানী ভাতা বাড়ানো, একযোগে ৬৪টি জেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’; বিচারপ্রাপ্তি সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সরকার আইনগত সহায়তা, ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা, বিচারিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির আদর্শকে সামনে রেখে সরকার নদী-খাল পুনঃখনন শুরু করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে সরকার।

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা

এই ছয় মাসে সরকারের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু অধিকাংশ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে বাস্তব সুবিধাভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়নের গতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব দিয়ে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী সমকালকে বলেন, এই ছয় মাস ছিল ভিত্তি তৈরির সময়। এখন সেই ভিত্তির ওপর দৃশ্যমান ফল দেখানোর পালা। কৃষকের আয় বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা, শিক্ষার মান বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা– সব মিলিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সেটিকে ধারণ করেই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ​আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এবং ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল– মানবাধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও আইনের শাসন, তা প্রতিষ্ঠা করা। যে কারণে গত ছয় মাসে দেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। বরং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ সর্বোচ্চ স্বাধীনতা উপভোগ করেছেন এবং সরকারের প্রতি আস্থা, ভালোবাসা, জনসমর্থন আমরা দেখতে পেয়েছি।

​তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখছি, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অশেষ কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি ভিআইপি সংস্কৃতিকে ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর