নেপালের ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জরুরি অভিযান চলছে। ভেতরে বাতাস প্রবেশ করানো হচ্ছে। জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য সেখানে ম্যানহোল খননের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
দেশটির ‘ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯০০ শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৬১ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
জ্বালানি, পানি সম্পদমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ শনিবার গভীর রাতে জানান, বন্যার পর কাদা ও পলিতে চাপা পড়ে ‘ত্রিশুলি-৩ এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এর টানেলে চলমান উদ্ধার অভিযানে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্র দিয়ে টানেলের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও পলি সরানোর কাজ করছেন। মন্ত্রী জানান, ওপরের অংশ দিয়ে ৬ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গর্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে ভেতরে কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি। এরপর টানেলের ভেতরে বাতাস, আলো ও শব্দ প্রবেশ করানো হয়েছে। তবে ভেতরে থাকা কারও সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।
বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ জানান, সেখানে যে গর্ত আছে সেটি আরও বড় করে একটি ম্যানহোল তৈরি করা হবে। রোববারের মধ্যে কয়েকটি পথ ব্যবহার করে মূল টানেলে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার নেপাল সেনাবাহিনী একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধারের নাটকীয় ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ঘন কাদার মধ্য দিয়ে জীবিতরা হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসছেন। ওই ভিডিওটি রাসুওয়া জেলায় ধারণ করা হয়েছিল।
টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য নেপাল সরকার ভারত ও চীনের কাছে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর অনুরোধ করেছে। শনিবার দুই দেশের উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছে।


