চট্টগ্রামের রাউজানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল করিম নামে যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ দুর্বৃত্ত এসে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
এদিকে করিম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত রায়হান ফেসবুকে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
আবদুল করিমের (৩৫) বাড়ি উপজেলার হারপাড়া গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, করিমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মোটরসাইকেলে পাঁচ দুর্বৃত্ত এসে কেরানীহাট বাজারের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা করিমকে প্রথমে চাপাতি দিয়ে কোপায়। পরে দুজন আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, করিমের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলাসহ ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের ১০টি মামলা রয়েছে। করিম নিজেকে ‘যুবদল কর্মী’ পরিচয় দিতেন, এমন তথ্য নাকচ করেছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সাহিল।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এ উপজেলায় এ নিয়ে খুন হয়েছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী খুন হয়েছেন ২৪ জন।
ফেসবুকে রায়হানের গুলি ছোড়ার ভিডিও
রাউজানে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল করিম হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মো. রায়হান। রায়হান বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সাজ্জাদ হোসেনের দলের আরেক সদস্য ডেভিড ইমনকে গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভিডিওতে দেখা যায়, রায়হান একটি নাইন এমএম পিস্তল হাতে নিয়ে পরপর তিনটি গুলি ছুড়ছেন। তবে ভিডিওটি কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


