শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে দেশের গুপ্ত বাহিনী সায় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট ভারতে গিয়ে সেখান থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। আর দেশের ভেতরে থাকা গুপ্ত ও সুপ্তরা তালের পাখা দিয়ে বাতাস করছে।
দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আযাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, কেন্দ্রীয় নেতা ডাক্তার জাহিদ, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মাসুম বিল্লাহ, জহির উদ্দিন তুহিন, শেখ ফরিদসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
বক্তব্যে দেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। কিন্তু এ দেশের জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে আছে। এই রাজপথ অন্য কোনো দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি বা কেউ কিনে নেয়নি। এই রাজপথ এ দেশের মেহনতি জনগণের। বিএনপি সব সময় অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট চলছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, কিউবায় ১০-১৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ বিরোধী দলের কিছু নেতা না বুঝে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে, বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে মোড় নিচ্ছে। অথচ একটি মহল জনগণের কষ্টকে পুঁজি করে বিলাসিতা ও অতিরিক্ত গাড়িবহর নিয়ে শোডাউন করে অপচয় করছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যমুনা সেতুর টোলের হিসাব ছিল সাড়ে ৪০০ গাড়ি। আর জামায়াতের আমির বলেছেন, এক হাজার গাড়ি নিয়ে গেছেন। এত গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম বা রংপুরে যাওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? যদি ধরেও নিই যে সাড়ে ৪০০ গাড়ি ছিল, তবে এই পরিমাণ জ্বালানি খরচ না করে তা যদি সাশ্রয় করা হতো, তবে দেশের উপকার হতো।


