লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ফ্ল্যাট জব্দ

লন্ডনে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট। দুর্নীতিবিরোধী তদন্তকারীদের অভিযোগ, আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের সঙ্গে ফ্ল্যাটটির যোগসূত্র রয়েছে।
এ ছাড়া প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে বাংলাদেশের এক ব্যবসায়ী ফ্ল্যাটটির নিয়ন্ত্রণ নামমাত্র ১ পাউন্ডের বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) চলতি সপ্তাহে আদালতের কাছ থেকে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছে। এর ফলে লন্ডনের রিজেন্টস পার্কের কাছে অবস্থিত বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।

ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য তার প্রতিষ্ঠানের অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছেন আনিসুজ্জামান ‘রনি’ চৌধুরী। এরপরই এই পদক্ষেপ নেয় এনসিএ।
গত বৃহস্পতিবার আদালতের শুনানিতে জানানো হয়, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ভাই সাইফুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী ছিলেন। গত বছর আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি ‘আনএক্সপ্লেইন্ড ওয়েলথ অর্ডার’ বা সম্পদের উৎস ব্যাখ্যার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশে তাঁকে প্রমাণ করতে বলা হয়, বৈধ অর্থ দিয়েই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল। তবে তিনি অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হন।
যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইন অনুযায়ী, এ ধরনের নির্দেশের জবাবে সম্পদের বৈধ উৎস প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে সম্পত্তিটি অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে আইনগতভাবে ধরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এনসিএর এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে যে সংস্থাটি সন্দেহ করছে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে কেনা হয়েছে। পরে বিচারপতি কারেন স্টেইন রায় দেন, ফ্ল্যাটটি অপরাধলব্ধ অর্থের মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকতে পারে এমন যুক্তিসংগত ও শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। এরপর তিনি সম্পত্তিটি জব্দ রাখার নির্দেশ দেন। তবে বাড়িওয়ালার দখল পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চালানোর সুযোগ রাখতে আদেশে একটি ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে।

আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, তারা সম্পত্তি জব্দের আবেদনের বিরোধিতা করেননি। এ বিষয়ে এফটিকে আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আইনজীবীদের পরামর্শে আমি এনসিএর সম্পত্তি জব্দের আবেদনের বিরোধিতা করিনি। তবে আমি কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত নই। এনসিএ যদি দেওয়ানি আইনে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা করে, তাহলে আমি জোরালোভাবে সেই মামলার মোকাবিলা করব এবং আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা, তা প্রমাণ করব।’
ফ্ল্যাটটির মালিকানা গোপন করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সম্পত্তিটির মালিকানা সম্পর্কে এনসিএকে ‘স্বচ্ছভাবে তথ্য দেওয়া হয়েছিল’। স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে কোনো মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তিনি তারও জোরালো প্রতিবাদ করবেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
জুলাই মাসে তৈরি করা সাক্ষ্যবিবৃতিতে এনসিএর ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, আনিসুজ্জামান চৌধুরী যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন এবং ফ্ল্যাটটি তাঁর প্রধান আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করতেন।
এদিকে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সম্পত্তির বিশাল পোর্টফোলিও গড়ে তুলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর