বিএনপি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রখ্যাত সাংবাদিক, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সংবাদ পাঠক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন দেবতুল্য মানুষ। তার মতো অনেকের অদম্য সাহস ও সততা ছিল বলেই ফ্যাসিস্টরা এ দেশে চিরস্থায়ী হতে পারেনি। এ সময় বিদেশে শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশিদের সুনামের কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো গুণী ও দেশপ্রেমিক মানুষকে স্মরণ করার অর্থ হলো ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা। দেশে গুণী, ভালো ও প্রয়োজনীয় মানুষদের স্মরণ করার লোকের অভাব রয়েছে। বরং প্রকৃত ভিলেনদের হিরো বানাতে নানা আয়োজন করা হয়। সে দিক থেকে গিয়াস কামাল চৌধুরীকে স্মরণ করা একটি ভালো কাজ।

গিয়াস কামাল চৌধুরীর ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জীবনানন্দ দাশের ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে—‘এ পৃথিবী একবার পায় তাকে, পায় না তো খোয়ার।’ গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো আরও সাংবাদিক আসবেন, নতুন মুখ আসবে; কিন্তু তার মতো ব্যক্তিত্ব আর কখনও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মরহুম আনোয়ার জাহিদ, আহমেদ হুমায়ুন, এনায়েতুল্লাহ খান, আকরাম খান ও আবুল কালাম শামসুদ্দিনের বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিক। তবে গিয়াস কামাল ছিলেন গণমানুষের সাংবাদিক। মানুষের জন্য, দেশের জন্য তার অন্তরের দরদ আজ আর দেখা যায় না। তার মধ্যে সব সময় মওলানা ভাসানীর ছায়া দেখা যেত।

গিয়াস কামাল চৌধুরীর মানবিকতার স্মৃতিচারণা করে শিকদার বলেন, প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিলের পর বেঁচে যাওয়া ফলমূল ঝোলায় ভরে নিতেন তিনি। অনেকে এতে অবাক হলেও পরে জানতে পারতেন, সেসব খাবার প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন পর্যন্ত ফুটপাতের হকার ও ভিক্ষুকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন গিয়াস কামাল। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই সাংবাদিককে অনেকে ভুল বুঝলেও তিনি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে মানুষের রিকশাভাড়া ও খাবারের খরচ জোগাতেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন যমুনা সেতু চালুর ১৫ দিন পর রাজশাহীতে একটি সেমিনারে যাওয়ার পথে এক দুর্বৃত্তকে হাতুড়ি দিয়ে সেতুতে আঘাত করতে দেখে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন গিয়াস কামাল। দেশের সামান্য ক্ষতিও তার দৃষ্টি এড়াত না।

গিয়াস কামালের জনপ্রিয়তার স্মৃতি তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, চলনবিলের কাদায় গাড়ি আটকে গেলে তিনি ক্ষেতমজুরদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। ভয়েস অব আমেরিকার পরিচিত কণ্ঠের এই সাংবাদিককে চিনতে পেরে খেটে খাওয়া মানুষগুলো সারিবদ্ধভাবে তাকে কদমবুচি করেন। এটি তার বিপুল জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গিয়াস কামালের অটুট আস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ফেনীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় গিয়াস কামালকে ভয়েস অব আমেরিকা থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। চাকরি ছেড়ে দিলেও তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থার জায়গা থেকে সরে দাঁড়াননি।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল মুখের ওপর সত্য কথা বলতে কখনও ভয় পেতেন না। আদর্শনিষ্ঠ ও ন্যায়নিষ্ঠ এমন বিরল দেশপ্রেমিক সাংবাদিক আজকের সমাজে অত্যন্ত দুর্লভ।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতির মহাসচিব মোহাঃ শেখ সাদীসহ অন্যরা।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর