উপনির্বাচনে কারচুপির শঙ্কা সরকারকে হুঁশিয়ারি ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বিএনপিকে সতর্ক করে তারা বলেছে, মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপির কী পরিণতি হয়েছিল স্মরণে রাখুন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের লিয়োজোঁ কমিটির বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। সাত দফা দাবিতে জোটের ঘোষিত আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে লিয়াজোঁ কমিটির এ বৈঠক হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন। ১১ দলের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত নেতা  দেলাওয়ার হোসেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মির্জা ফখরুল দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন এক লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে দাবি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সেখানে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো কারচুপির পরিকল্পনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাগুরার উপনির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের কালো অধ্যায়। এ থেকে সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।  বিরোধী দল ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার উপনির্বাচনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।

বিএনপির এমপি মজিদ-উল-হকের মৃত্যুতে শূন্য মাগুরা-২ আসনে ১৯৯৪ সালে উপনির্বাচন হয়। সেই সময়কার ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে  ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল দাবি তোলে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের আন্দোলন শুরু হয়।

সরকারের দাবি ভুয়া 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার অভিযোগ তুলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দলের নেতারাই নানা সময়ে দাবি করেছেন, তাদের ভোটের ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথনেও এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ বিএনপি করেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগকে ভুয়া বলে নাকচ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের কাছে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করুক।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে– স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ  বক্তব্যের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত ছয়-সাত মাসে ক্ষমতাসীন দলের ৪০ জন কর্মী নিজেদের দলের লোকজনের হাতে খুন হয়েছেন। এটা উন্নতি? হেফাজতের উদ্যোগে কওমি ঘরানার যে সাত দলের জোট হচ্ছে এর দুটি জামায়াতের শরিক। এ বিষয়ে আযাদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের ঐক্য অটুট থাকবে।

গোপালগঞ্জে লংমার্চের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

১১ দলের লংমার্চ ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু, শরীয়তপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে গোপালগঞ্জ শহরের ওপর দিয়ে বাগেরহাট যাবে। লংমার্চের পথসভা গোপালগঞ্জে হবে না। জেলাটি পার হয়েই বাগেরহাটের ফকিরহাটে পথসভা হবে।

গোপালগঞ্জ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলার আশঙ্কা আছে কিনা– জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকারের জিম্মাদারির কথা এখানে স্মরণ করিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর