পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় বাবার মামলায় সন্দেহভাজন তিন কিশোর-তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। গতকাল শনিবার তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–উপজেলার দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের মো. শুভ ওরফে শান্ত (২২) ও মো. রাশেদ হাওলাদার (১৯) ও একই উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়ার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। গত বৃহস্পতিবার মেয়েটির লাশ উদ্ধারের রাতেই তার বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের আটক করে। গতকাল শনিবার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
স্বজনের তথ্য মতে, টেস্ট পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গত মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। সেদিন বিকেলে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষকেরা জানান, সে পরীক্ষায় অংশ নিতে যায়নি। গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন মেয়েটির বাড়ির অদূরে একটি ডোবায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে জানায়। পুলিশ বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এই কিশোরীকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, কিশোরী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে বৃহস্পতিবার রাতেই আটক করা হয়। দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা কোনো তথ্য দেননি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা সবাই অস্বীকার করেছেন। তবে তিনজনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেছেন। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


