গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি, আটা-ময়দায় নতুন চাপ ডিটারজেন্ট পাউডার কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে

এবার মৌসুমেও চালের দাম ছিল বেশ চড়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চালের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে আটা-ময়দা। গত এক মাসে আটা ও ময়দার দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিটারজেন্ট পাউডার ও গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে। তবে সবজির বাজার কিছুটা স্থির রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসখানেক ধরে আটা-ময়দার দাম বাড়তি। কিছু কোম্পানি ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম বাড়িয়েছে। তবে এসব পণ্যের সরবরাহে তেমন কোনো ঘাটতি নেই। এ ছাড়া আমদানির কারণে কাঁচামরিচের দাম আগের অবস্থানে ফিরেছে। সবজির সরবরাহ কিছুটা বাড়ার কারণে দাম স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি বাজার, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বছর ভরা মৌসুমেও চালের দাম ছিল বেশ চড়া। সপ্তাহ দুয়েক ধরে দাম কমতে থাকে। বর্তমানে সরু বা মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। মাঝারি, অর্থাৎ পাইজাম ও বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়। ২০-২৫ দিন আগে এ জাতের চালের কেজি ছিল ৫৫ থেকে ৬৮ টাকা। মোটা চালের দামও কমেছে। এক মাস আগে স্বর্ণা বা চায়না ইরি জাতের মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা করে।

চালের দামের এই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে আটা-ময়দা। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ ও মোড়কজাত ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ২০-২৫ দিন আগে এ দুই ধরনের আটা কেনা গেছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোড়কজাত ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগে কেনা গেছে যথাক্রমে ৫৫ থেকে ৬০ ও ৬০ থেকে ৭৫ টাকা দরে। অর্থাৎ, গত প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আটা ও ময়দার কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

আটার মতো সুগন্ধি চালের বাজারেও অস্বস্তি রয়েছে। খোলা প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ আর প্যাকেটজাত চাল ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান সমকালকে বলেন, এক মাস ধরে আটার দাম বাড়তি। আগে দুই কেজির আটার প্যাকেটে সর্বোচ্চ খুচরা দাম ছিল ১২০ টাকা, দাম বাড়িয়ে কোম্পানিগুলো নতুন দর লিখেছে ১৩০ টাকা। একইভাবে দুই কেজির ময়দার প্যাকেটের খুচরা দর ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে নির্ধারণ করেছে ১৬০ টাকা। তিনি বলেন, কোম্পানি দাম বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।

একই বাজারের হাবিব জেনারেল স্টোরের বিক্রয়কর্মী রাতুল হাসান বলেন, কাপড় ধোয়ার হুইল পাউডার কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়েছে কোম্পানি। আগে এক কেজির দাম ছিল ১৪৬ টাকা, এখন ১৬৫ টাকা। একইভাবে ৯০ গ্রাম ওজনের লাক্স সাবান প্রতিটির দাম ৬০ টাকা থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হয়েছে।

বাজারে গুঁড়া দুধের দামও বাড়তি দেখা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি প্যাকেট গুঁড়া দুধের দাম ছিল ৪৫০ টাকা, এখন ৪৮০ টাকা। অর্থাৎ, কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। একইভাবে ডিপ্লোমাসহ অন্য ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে।

তবে গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির বাজার কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে ১০ দিন আগে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের কেজি নেমেছে ১৩০ থেকে ১৮০ টাকায়। অন্য সবজিগুলোর দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকার মতো কম দেখা গেছে। গেল সপ্তাহে প্রতি কেজি গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০, করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল এসব সবজি বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে কমবেশি ১০০, ৮০ ও ৭০ টাকায়। ধুন্দল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। পেঁপে কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। তবে এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোর তুলনায় কারওয়ান বাজারে কিছুটা কম দামে সবজি পাওয়া যায়।

গত সপ্তাহের মতোই চড়া দেখা গেছে ডিমের বাজার। ফার্মের সাদা রঙের প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ এবং বাদামি রঙের ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া সোনালি জাতের মুরগিও কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর