জ্বালানি সংকট, অবকাঠামোর সমস্যা ও কাঁচামালের অভাবই এখন রপ্তানি খাতের বড় সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধান করা গেলে দেশের রপ্তানি আয় অনেক বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া রপ্তানি খাতে একক পণ্যে অতিনির্ভরতা একটি বড় ধরনের ঝুঁকি। রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে এ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রপ্তানিকারকরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের রপ্তানি খাতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬ প্রদানের ঘোষণা দেয় এইচএসবিসি বাংলাদেশ।
ইতোপূর্বে এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন। তারা হলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান এবং উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান।
আলোচনায় আহসান খান চৌধুরী বলেন, রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অবকাঠামো, মূল্য সংযোজন ও ব্র্যান্ডিং। এগুলো একই সঙ্গে সুযোগও। এসব বিষয়ে মনোযোগ দিলে রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্যপণ্য মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে সহজলভ্য করার দিকে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের আরও বেশি পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তাদের।
আসিফ আশরাফ বলেন, জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। রপ্তানি বাড়ানো, উদ্ভাবনী পণ্য যেমন পোশাকের নকশা ও অন্যান্য সেবায় এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
এনায়েতুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্ট পণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তাদের আস্থা বাড়ছে। রপ্তানিতে খাতটি বড় সম্ভাবনাময়। তবে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্বল অবকাঠামো, জ্বালানি সংকট, মানসম্পন্ন ইন্টারনেটের অভাব। তবে বড় শক্তি হচ্ছে জনবল। তাঁর প্রতিষ্ঠানের ৪০ প্রকৌশলী অ্যাপলের ফোনের চিপের কাজ করেন। জনমিতির সুবিধা নিতে শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, যে কোনো দেশের মতো বাংলাদেশেও অর্থনীতির অন্যতম শক্তি হচ্ছে রপ্তানি খাত। তবে একক পণ্যে অতিনির্ভরতা রপ্তানি খাতের জন্য বড় ঝুঁকি। এক বিলিয়ন ডলারের মতো রপ্তানি হয় এমন অন্য খাত বলতে গেলে নেই। পশ্চাৎসংযোগ শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে তৈরি পোশাকের অগ্রগতি অন্য খাতও অনুসরণ করতে পারে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড অব কমিউনিকেশন্স তালুকদার নোমান আনোয়ার এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে অংশগ্রহণের নিয়মগুলোর বিস্তারিত জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসের এবারের আয়োজনে নমিনেশন ফর্ম পূরণের মাধ্যমে ‘বছরের সেরা রপ্তানিকারক’ হিসেবে চারটি ক্যাটেগরিতে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর একটি হচ্ছে রপ্তানিতে এক্সিলেন্স তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি)। পোশাক খাতে যেসব প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় বছরে ১০ কোটি ডলার ও তার বেশি তারা এ ক্যাটেগরিতে অংশ নিতে পারবে।
আরেকটি ক্যাটেগরি হচ্ছে রপ্তানিতে এক্সিলেন্স তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি) ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ। পশ্চাৎসংযোগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় পাঁচ কোটি ডলার ও তার বেশি তারা এতে অংশ নিতে পারবে। আরেকটি হচ্ছে রপ্তানিতে এক্সিলেন্স– অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র (ম্যানুফ্যাকচারিং) ক্যাটেগরি। যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় এক কোটি ডলার ও তার বেশি তারা এতে অংশ নিতে পারবে। ইলেক্ট্রনিক্স, হাল্কা প্রকৌশল, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, এগ্রো প্রসেসিং, অটোমোটিভ কম্পোনেন্টস ইত্যাদি এ ক্যাটেগরির অন্তুর্ভুক্ত।
এ ছাড়া রপ্তানিতে এক্সিলেন্স-অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র (সার্ভিস) ক্যাটেগরিতে আরেকটি পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ক্যাটেগরিতে প্রফেশনাল, ডিজিটাল, জ্ঞানভিত্তিক সেবা ইত্যাদি খাতে যাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় ৫০ লাখ ডলার ও তার বেশি যেসব প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে।
এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ এর পৃষ্ঠপোষকতায় থাকছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন। টেকনিক্যাল পার্টনার আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং। বিচারকমণ্ডলী বা জুরি প্যানেলে থাকবেন এইচএসবিসি সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা।
বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান, সামাজিক দায়িত্ববোধ, টেকসই পরিচালন প্রক্রিয়া, বৈচিত্র্য, রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স ইত্যাদিও বিচার করা হবে। অংশগ্রহণের জন্য কোনো এন্ট্রি ফি নেই। অংশগ্রহণকারীকে এইচএসবিসির গ্রাহক হওয়ারও প্রয়োজন নেই।


