পোশাকের কাঁচামাল আমদানি ৩০% মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল চায় বিটিএমএ

0
2

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত প্রত্যাহারের কঠোর সমালোচনা করেছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি বলেছে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানিতে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার হবে। এতে টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি তৈরি পোশাক রপ্তানিও ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উন্নীত হওয়ার পর জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে স্থানীয় মূল্যসংযোজন অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করার শর্ত থাকবে। এছাড়া জোটগত প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্য বাজারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতেও মূল্যসংযোজনের শর্ত থাকবে।

রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার, সাবেক সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন ও এক্সেসরিজ উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সংগঠন বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

গত ৮ জুন জারি করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাতিল করা হয়। এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় শিল্প আরও সমস্যায় পড়ে বন্ধ হবে। এমনিতেই ২৩৪টি বস্ত্রকল বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে তাঁর নিজেরই ৫টি মিল বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কসুবিধা ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি রাখতে হবে। তাই দেশীয় সুতা ও কাপড়ের উৎপাদন ধরে রাখতে এবং বন্ডের অনিয়ম রুখতে এই শর্ত বহাল রাখা অপরিহার্য।
করপোরেট পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য করপোরেট করহার ১২ শতাংশ হলেও প্রাথমিক বস্ত্র খাতে কার্যকর আয়কর হার সাড়ে ২৭ শতাংশ। এটিকে ‘চরম বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, একই ব্যবস্থার অংশ হওয়া সত্ত্বেও বস্ত্র খাত বেশি করের মুখোমুখি হচ্ছে। বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের করহার কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি করেন তিনি।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এই ৬০ হাজার কোটি টাকা কাকে দেওয়া হবে, কেন দেওয়া হবে, কীভাবে দেওয়া হবে, তার কোনো পথনকশা এখনও জানা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here