প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিসিআই সভাপতি জ্বালানি নিয়ে শঙ্কায় পোশাকের অর্ডার স্থগিত করছেন ক্রেতারা

0
8

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানিশূন্য হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ– এমন আশঙ্কায় তৈরি পোশাকের অর্ডার বা ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছেন অনেক বিদেশি ক্রেতা। বাংলাদেশ ছেড়ে এসব অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বিভিন্ন ব্যবসায়ী চেম্বারের সঙ্গে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমন বক্তব্য দেন।

বিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, বিদ্যুৎ সংকটসহ অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ কারণে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন ভারত বা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছে। আগামী জুলাই এবং আগস্ট মাসের জন্য যে পরিমাণ অর্ডার আসার কথা ছিল, তা অত্যন্ত ধীর হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্রেতা ইতোমধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া শুরু করেছে। তিনি বলেন, বড় ক্রেতাদের ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছু হটছে।
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান কর ব্যবস্থা অবাস্তব। লাভ বা লোকসান হোক, ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হয়। এই বিধান অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন, বিশেষত ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য অনেক বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হয়, যা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলছে।

তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করছে। বিসিআই সভাপতি রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর অনুরোধ জানান। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, উৎসে কর কমানো হবে না।

সভায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। ডিসিসিআই মনে করে, এতে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে পারবে এবং নতুন করদাতারা করজালের আওতায় আসতে উৎসাহিত হবে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। ডিসিসিআইর পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য সিকিউরিটিজের সুদের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। অনেক দেশে কর আহরণের বেশির ভাগ উৎসে কর থেকে আসে। ভবিষ্যৎ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বিবেচনায় এটি কমানোর সুযোগ নেই, বরং বাড়ানোর চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রযোজ্য করের তুলনায় উৎসে বেশি কাটা হলে তা পরের বছর সমন্বয় বা রিফান্ড করার সুযোগ থাকছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here