বিধিমালা সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত শিথিল হচ্ছে মার্জিন ঋণের বিধিনিষেধ

0
4

অন্তত এক বছর কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকা এবং ৫ শতাংশের কম লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘বি’ ক্যাটেগরিভুক্ত শেয়ারে মার্জিন ঋণ পেতে বর্তমানে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নতুন করে মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। খসড়া প্রস্তাব অনুসারে, মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত না করেই কোনো ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক ঋণ প্রদান করতে পারবে। মার্জিন অ্যাকাউন্টে নগদে নন-মার্জিন শেয়ারও কেনা যাবে।

বিধিমালায় আরও বেশ কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এ বিষয়ে খসড়াও চূড়ান্ত হয়েছে, যা শিগগিরই জনমত গ্রহণের প্রকাশ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে এ বিধিমালার সংশোধন করে গত বছরের ৬ নভেম্বর গেজেট হয়েছিল।

এদিকে মার্জিন ঋণ বিধিমালায় সংশোধন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি গতকালের সভায় কমিশন দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে স্ক্রিপ নেটিং বা একই দিনে কোনো নির্দিষ্ট শেয়ার কিনে পরে এক বা একাধিক কেনাবেচার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সব আইনি বিধান পরিপালনে শর্ত দেওয়া হয়েছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধনের উদ্দেশ্য ছিল মার্জিন ঋণ নিরুৎসাহিত করা। বর্তমান কমিশনের অবস্থান প্রায় এর বিপরীত। তারা প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ বিধানে যেসব পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে তাতে বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং রাতারাতি শেয়ারদর বেড়ে যাবে। টানা দুই বছর আইপিও খরার মধ্যে একই শেয়ারে নতুন চাহিদা অস্বাভাবিক দাম বাড়াবে। আবার বিনিয়োগকারীরা এখনও সচেতন নয় বলা হলেও  স্ক্রিপ নেটিংয়ের মতো সুবিধা চালু করে ‘বিনিয়োগ’ এর বদলে ‘ট্রেডিং’ বা শেয়ার ব্যবসা করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ৩-৬ মাসে বহু শেয়ারের দাম দ্বিগুণ, তিনগুণ, এমনকি আটগুণ হয়েছে। এ সময়ে চাহিদা বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত ‘আগুনে ঘি ঢালা’র মতো। ফলে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কমিশন আয় বাড়বে এবং এরই মধ্যে বাজারে যে কারসাজি চক্র শুরু হয়েছে, তাদের উৎসাহিত করবে।
অবশ্য বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালামের দাবি, কিছু প্রয়োগিক জটিলতা কমাতে এ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্ক্রিপ নেটিংয়ের কারণে বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, শুরুতে চাহিদা তৈরি করলেও ওই দিন দাম বাড়লে দিনের মধ্যে ওই শেয়ার বিক্রি করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এতে বাড়তি ‘সাপ্লাই’ নিশ্চিত হবে, যা বাজারকে ‘কুল’ করতে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানান, কমিশন এ সুবিধা প্রচলনের অনুমতি দিলেও তা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ, এ সুবিধা চালু করতে সফটওয়্যারে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য কমপক্ষে চার মাস সময় লাগবে। আশা করছি, এরই মধ্যে পাইপলাইনে থাকা কিছু আইপিও বাজারে আসবে। ফলে চাহিদা ও জোগানে সমন্বয় হয়ে যাবে। সময়মত জোগান নিশ্চিত না হলে কী হবে সে প্রশ্নে তিনি বলেন, নিশ্চয় তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুরুতে ব্লুচিপ ৩০ শেয়ারে এ সুবিধা চালু করার চিন্তা আছে, সব শেয়ারে নয়।
বিদ্যমান আইনে বাজার পিই রেশিও ২০-এ উন্নীত হলেই সতর্কতা জারির শর্ত ছিল। বিধিমালার সংশােধন প্রস্তাব অনুসারে মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে পিই রেশিও ৩০ বহাল থাকছে। এর বাইরে বিদ্যমান আইনে গৃহিণী ও শিক্ষার্থীদের মার্জিন ঋণ গ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here