১৫ বছর খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে: আইসিসিবি সভাপতি

0
2

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশীয় খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি বিতর্ক চলছে–গ্যাস কোথায় অগ্রাধিকার পাবে। গ্যাস কি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাবে, শিল্পে যাবে, নাকি সার কারখানায়। তিন সেক্টরেই যেতে হবে। কারণ সবগুলোতেই এটি দরকার এবং একটির সঙ্গে অন্যটি যুক্ত।

বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র দুটি ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি চলছে। বাকিগুলো বন্ধ, সেগুলো গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। দেশে সার যদি উৎপাদন না হয় তাহলে আমদানি করতে হবে। বিদেশ থেকে ফার্টিলাইজার পাওয়াও যাচ্ছে না। এ কারণে ফার্টিলাইজার কারখানায় গ্যাস দিতে হবে। শিল্প খাতে গ্যাস দিতে হবে। সার উৎপাদন না করলে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। আবার শিল্পে গ্যাস না দিলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুন কোনো শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না।

আইসিসিবি সভাপতি বলেন, শিল্প খাতে যদি প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেওয়া না হয় তাহলে শিল্প মালিকরা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারবেন না। ফলে দেশে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমবে। এলএনজি আমদানির জন্য স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে গ্যাস কেনা সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার বলছে যে, দেশে বিনিয়োগ আসুক, এফডিআই (প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ) আসুক। যেখানে অফিসিয়ালি বলা হচ্ছে, নতুন কোনো গ্যাস সংযোগ দেওয়া যাবে না সেখানে কীভাবে বিনিয়োগ আসবে- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, এটার পেছনে সংকটটা যেটা হয়েছে, আমরা দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরে জলে-স্থলে কোথাও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করিনি। এখন যেটা হচ্ছে, সেটাও পুরোমাত্রায় হচ্ছে না। সিলেকটেড কিছু জায়গায় হচ্ছে। যেমন ভোলায় সেখানে গ্যাস শনাক্ত হয়েছে ২০১৮ সালে, আজকে ২০২৬ সাল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সেখানকার গ্যাস পাইপে করে নিয়ে আসতে পারবে কিনা, এলএনজি করবে কিনা, নাকি সেখানে কোনো পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির মতো ইন্ডাস্ট্রি সেটআপ করবে। এভাবেও আসতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলো- এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্তগুলো এবং এর বাস্তবায়ন খুবই ধীরগতিতে চলছে। এসব কারণে জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলোর সমাধানও হচ্ছে না।

এই অবস্থায় সরকারের কী বিকল্প সেটিও তুলে ধরেন আইসিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এখন বিকল্প হলো- গ্যাস আমদানি করা। এলএনজি আমদানি করতে হলে এলএনজির কিউতে অনেক পেছনে থাকার কারণে সরকারকে অনেক সময় স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে কিনতে হয়। এতে দামও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, নতুন করে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের আগ পর্যন্ত দুটি চয়েজের বিকল্প নেই। একটি হলো নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সোলার এনার্জি যার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, অন্যটি এলএনজি। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা সহজেই বিদ্যুতের উৎপাদনের বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারি।’

সরকারের বিনিয়োগ আহ্বানের বিষয়ে আইসিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আগে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এটা সাকসেসফুল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই এমনিতে চলে আসবে। আমি মনে করি, এসব ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাটে ও বলের কানেকশনটা ঠিকভাবে হচ্ছে না। আর নতুন করে গ্যাস কানেকশন দেওয়া হবে না এমন ঘোষণাও সঠিক নয়।’

তিনি বলেন, বিদ্যুতের জন্য যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে সেখানে বলা হচ্ছে যে, বিদ্যুতে আমাদের ২৮ হাজার মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি। শিল্প খাতে ১২-১৪ হাজার মেগাওয়াটও সাপ্লাই দিতে পারছে না সরকার। অথচ ক্যাপাসিটি চার্জ ধরা হচ্ছে। এটা কোন ধরনের কথা।

সংকট নিরসনে কী করণীয় সে ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান বলেন, সুশাসন নিশ্চিত না করে এবং স্টেকহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে কেবল আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়। বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বসা এবং তাদের সমস্যা শোনা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের  আমন্ত্রণ জানানো এবং জিজ্ঞেস করা যে, শিল্প রক্ষায় কোথায় তাদের সহায়তা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here