শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংলিশ মিডিয়ামসহ একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনোভাবেই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না। বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে থাকবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে।
আজ বুধবার সিলেটে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নগরীর মেন্দিবাগ এলাকায় জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে সরকার। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করবে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুর হক চৌধুরী। তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে জানান, সিলেটে অনেক প্রাইভেট স্কুল আছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছামত টাকা নিচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রল করা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি বাতিল করার পর আমাকে নিয়ে কত ট্রল হলো। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আমার এলাকায় গিয়ে আমি বাচ্চাদের বলেছিলাম, তোমাদের জাইমা রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। নির্বাচনের আগে এ কথা বলেছিলাম। এখন এটা নিয়েও আমাকে ট্রল করা হচ্ছে। কি আর বলব।’
মন্ত্রী আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় সিলেটের ফলাফল লন্ডনের ওয়েদারের মত উঠানামা করে। সিলেট সবসময় ফার্স্ট হয়, তবে শুধু ডলারে আর পাউন্ডে। সিলেটকে পড়ালেখায়ও ফার্স্ট হতে হবে। শুধু প্রবাসী আয়ে এগিয়ে থাকলেও চলবে না।
সভায় মন্ত্রী সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর করার কথা জানিয়ে বলেন, যিনি জায়গা দেবেন, তার নামে স্কুল করে দেব, আমরা বিল্ডিং করব।
সভায় শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম প্রমুখ।




