ইলিশের বাজার খুলনায় ৫ বছরের মধ্যে সরবরাহ সবচেয়ে কম

0
6

বড় ঝুড়িতে কাচের টুকরোর মতো বিছানো রয়েছে বরফ। তার ওপর সাজিয়ে রাখা ইলিশ। লাইটের তীব্র আলোয় ইলিশের মোহনীয়তা আরও বাড়ছে। ঝকঝকে ইলিশ দেখে চোখ চকচক করছিল ব্যাংক কর্মকর্তা রায়হান হাসানের। কিন্তু দাম শুনে মুখটা মিলন হয়ে গেল তাঁর।
বললেন, ‘কয়েক দিন আগে মা বলছিল, এই সিজনে তো ইলিশ কিনলি না। ভেবেছিলাম জুলাইয়ের শেষে দাম কমলে তখন কিনব। বাজারে এসে দেখি দাম আরও বাড়তি। সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে এক কেজি ইলিশ কেনার মতো সামর্থ্য নেই, তাই ফিরে যাচ্ছি।’

গত রোববার রাত ৯টার দিকে নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের সান্ধ্য বাজারে কথা হচ্ছিল রায়হান হাসানের সঙ্গে। ইলিশের দোকানগুলোতে তখন ক্রেতাদের ভিড়। বেশির ভাগই দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। ভরা মৌসুমেও চড়া দামের কারণে চোখে দেখেই সান্ত্বনা নিতে হচ্ছে মানুষকে।

খুচরা ইলিশ বিক্রেতা হাফিজুল ইসলাম জানালেন, এবার ইলিশ ধরা পড়ছে কম। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ চার হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং জাটকা  বা ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের সবচেয়ে ছোট ইলিশও এক হাজার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, সরবরাহ না বাড়লে দাম কমবে না।

খুচরা বিক্রেতা হাফিজুলের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেল পাইকারি বাজারে। মঙ্গলবার সকালে নগরীর ৫ নম্বর ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশ এসেছে মাত্র ১৪৮ কেজি। এর মধ্যে এক কেজি ওজনের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৯৪ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুই হাজার ৩৫০ টাকা। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের পাইকারি দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই ইলিশের সরবরাহ সবচেয়ে কম। ভরা মৌসুমে ১৫ জুলাই পর্যন্ত খুলনায় এসেছে মাত্র ৫৪৪ কেজি ইলিশ। এর আগে ২০২২ সালে ৩৮ হাজার ৫৪৬ কেজি, ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৯৭৬ কেজি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আট হাজার ৩৯১ কেজি এবং ২০২৫ সালে সাত হাজার ৫৩৯ কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে।

পাইকারি মাছের আড়তদার মুসা হোসেন বলেন, ঝড়বৃষ্টির কারণে জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। ইলিশ ধরা পড়ছে কম। তাই দাম বাড়তি। কবে কমবে বলা যাচ্ছে না।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আকবার হোসাইন বলেন, শুধু খুলনায় ইলিশ কম আসছে এমন নয়, পাথরঘাটায় অবস্থিত আমাদের অন্য অবতরণ কেন্দ্রেও ইলিশের আমদানি অনেক কম। এর প্রভাব পাইকারি ও খুচরা সব জায়গায় পড়ছে।

মঙ্গলবার সকালে পাইকারি বাজারেও ইলিশের দরদাম করতে দেখা গেল কয়েকজনকে। তাদেরই একজন টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। বললেন, ‘প্রতিবছর কয়েকজন বন্ধু মিলে পাইকারি দরে মাছ কিনে নিজেরা ভাগ করে নিই। দাম অনেক কম পড়ে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে, চোখে দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে, স্বাদ নেওয়া হবে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here