কক্সবাজারে পাহাড় ধসে এক রাতেই রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

0
13

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেসহ পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক রাতেই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটেছে পৃথক পাহাড়ধস। এছাড়াও কক্সবাজার শহরে আরও একটি পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত আট রোহিঙ্গাসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ নম্বর বালুখালী ও ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান।

রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ মোস্তাফা জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

Untitled 14 1783305840

উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের ১০ সদস্য। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই হয়েছেন গুরুতর আহত।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চালানো হয় উদ্ধার অভিযান। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

Untitled 13 1783305924

এর কিছুক্ষণ পরই রাত ২টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে সে।

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার করেন শিশুটির মরদেহ।

রাত গড়াতে না গড়াতেই আরেকটি দুঃসংবাদ আসে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।

নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

তিনটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা। তিনি জানান, ‘সবকটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

Untitled 16 1783305965

এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় পাহাড় ধ্বসে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাফর আলমের বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড়ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। তিনি বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here