জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

0
2

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আশেপাশে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার পিছু নেন। হঠাৎ দেখা যায় ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গলায় দড়ির মতো কিছু একটা পেঁচিয়ে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, “আমরা কয়েকজন বাইকে করে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একজনের চিৎকার শুনতে পাই। আমরা সেখানে গেলে পাশের জঙ্গল থেকে একটা মেয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় আসে। তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাটি, ধুলা লেগে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘আপু কী সমস্যা?’ তখন ওই শিক্ষার্থী জানান, কেউ একজন তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করছে। আমরা উপস্থিত সবাই তৎক্ষণাৎ জঙ্গলে ঢুকে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, কিন্তু অন্ধকারে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর আমরা নিরাপত্তা শাখায় ফোন দিই। তারা আসার পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।”

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জাকসুর নেতারাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে চিহিৃত করেছি। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। আমরা কোনো না কোনো ফুটেজ দেখে তার পরিষ্কার ছবি পাব বলে আশা করছি। আমরা ইতিমধ্যে পুলিশকে এই বিষয়ে জানিয়েছি। অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here