পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে চারপাশে যখন আনন্দধ্বনি বইছে, ঠিক তখনই ঝিনাইদহের মীম খাতুনের ঘর আলো করে এলো ফুটফুটে কন্যা সন্তান। মুহূর্তেই নববর্ষের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল। বছরের প্রথম দিনে জন্ম নেওয়া কন্যাকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান মা।
মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারিতে জন্ম নেয় শিশুটি। সন্তানের মুখ দেখে খুশিতে আত্মহারা পেশায় গ্যারেজ শ্রমিক বাবা ইয়াসিন আহমেদ।
মীমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ২৫ এপ্রিল সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা থাকলেও, আগেই প্রসব বেদনা ওঠে তার। সন্তানের মুখ দেখে সব ব্যথা-দুঃখ যেন মুহূর্তেই উবে গেল তার। শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করেন স্বজনরা। নানি কিনে দেন লাল রঙের জামা।
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদরের পাগলাকানাই ইউনিয়নের ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পে বেড়ে ওঠেন মীম। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয় যশোর জেলার পশ্চিম বারান্দি গ্রামের ইয়াসিন আহমেদের সঙ্গে।
মীম জানান, সন্তান সম্ভবা অবস্থায় কয়েকমাস আগে স্বামীর বাড়ি থেকে আবাসন প্রকল্পে মা’র কাছে আসেন মীম। রবিবার রাত ১২ টার দিকে প্রসব বেদনা উঠলে পরদিন সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে সন্তান হবে এমন ধারণাই ছিল না। বাংলা বছরের প্রথম দিন একমাত্র কন্যা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে ভেবে ভালো লাগছে।’
তিনি আরো জানান, চিকিৎসকেরা নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে সবসময় খোঁজ-খবর রেখেছেন।
‘ব্যাথা ওঠার পর প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। শারীরিক দুর্বলতা বেশি ছিল, খাবার রুচিও ছিল কম। অনেক শঙ্কা ছিল, তবে স্বামীর যত্ন দেখে সেসব শঙ্কাকে পাত্তা দিইনি।’- বলেন মীম
শিশুর নানি আফরোজা বেগম বলেন, ‘নাতনি হওয়ায় মনে হচ্ছে স্বর্গ পেয়েছি। সব সময়ই ওকে কোলে নিয়ে আদর করি।’
শিশুর বড় বাবা-মা আব্দুল মান্নান ও সাজেদা বেগম জানান, এই শিশু তাদের কলিজার টুকরা। তারা চান লেখাপড়া শিখে শিশুটি যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মার্ফিয়া খাতুন জানান, হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে মীমের শরীরে ওয়াটার লিকেজ ছাড়া তেমন কোন জটিলতা ছিল না। সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মনে হয়েছে তিনি নরমাল ডেলিভারির উপযুক্ত। চিকিৎসক-নার্সদের চেষ্টায় তার সুস্থ কন্যা সন্তান হয়েছে।
জানা যায়, সন্তান জন্মের পর মীম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামে মামা মাসুদ শেখের বাড়িতে আছেন। এখনো শিশুটির নাম রাখা হয়নি।




