সরকারি হাসপাতালে ওষুধ নেই, স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ মজুত

0
5

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সংকট এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়েও রোগী ফিরছেন খালি হাতে। ইনডোর ও আউটডোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। এর মধ্যেই হাসপাতালের স্টোরে পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধ। এসব ওষুধ কীভাবে গ্রহণ করা হলো, সে প্রশ্নেরও জবাব মিলেনি।
হাসপাতালে ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নির্ভরশীল। প্রতিদিন আউটডোরে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিন আউটডোর, ইনডোর, জরুরি বিভাগ ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ রোগী প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধ পাচ্ছেন না। অনেককে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
হাতিয়া অনন্তপুর গ্রামের শহীদুর রহমান বলেন, ‘ছয় ধরনের ওষুধ লিখে দিয়েছে। হাসপাতাল থেকে পেয়েছি তিনটা। গরিব মানুষ, টাকা কোথায় পাই?’ রাবেয়া বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘ডাক্তার তিনটা ওষুধ লিখছে, পাইছি একটা। বাকি দুইটা বাইরে কিনতে কইছে।’ আক্ষেপ করে তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যখন অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়, তখন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বহির্বিভাগের ফার্মাসিস্ট মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ পাওয়া যায় না। রোগীদের সঙ্গে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’ আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, ‘সরবরাহকৃত ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়।’ তবে সরবরাহকারী ঠিকাদার মেসার্স আসলাম উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমি কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহ করিনি। নির্ধারিত সময়েই সব ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সরকারি তালিকায় ৪৭ পদের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন ইউনিটে ১০ থেকে ১৫ পদের বেশি ওষুধ পৌঁছায় না। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে ওয়ার্ড ক্লিনিকগুলোও দীর্ঘদিন ওষুধ সংকটে ছিল। ছয় মাস পর চলতি মাসে প্রতিটি ক্লিনিকে মাত্র এক বাক্স করে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালের স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধ পাওয়া গেছে। স্টোরকিপার মো. বছির উদ্দিন বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো আমার আমলের নয়। স্বল্পমেয়াদি ওষুধ এসেছে, তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

ইনডোর ইনচার্জ শাহীনুর বেগম অভিযোগ করেন, ‘এক মাস মেয়াদের ওষুধও অনেক সময় নিতে বলা হয়। আপত্তি করলেও আমাদের গ্রহণ করতে হয়।’ তবে এসেনশিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি মোক‌ছেদুল আলম ব‌লেন, মা‌ঝেম‌ধ্যে স্বল্প মেয়া‌দের ওষুধ হাসপাতা‌লের কর্তৃপক্ষ‌কে জা‌নি‌য়েই সরবরাহ করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সরবরাহ সংকট রয়েছে। ছয় পদের স্বল্পমেয়াদি ওষুধ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ব‌্যা‌রিস্টার মাহবুব আলম ছা‌লেহী বলেন, খোঁজ নি‌য়ে ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা সি‌ভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমা‌রের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here