নাজনীন নীহা। অভিনেত্রী ও মডেল। গেল ঈদে প্রচার হওয়া তাঁর অভিনীত নাটক ‘মায়া পাখি’ দর্শক প্রশংসিত হয়েছে। এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘মায়া পাখি’ নাটকটি নিয়ে দর্শকদের দারুণ সাড়া মিলেছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
সত্যি বলতে, আমি খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। শুটিংয়ের সময় থেকেই মনে হয়েছিল নাটকটি দর্শকের ভালো লাগবে। গল্প, জাকারিয়া সৌখিনের নির্মাণ, নিজের অভিনয়– সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি বিশেষ কাজ ছিল। মুক্তির পর দর্শকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অনেকেই বলেছেন টিভিতে নাটকটি শেষ হওয়ার পরও এর আবেগ তাদের মনে রয়ে গেছে। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! বর্তমানে ইউটিউবে নাটকটি দর্শক দেখছেন। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।
নাটকে মায়া চরিত্রটি আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
অনেকটাই। আগে আমি এমন ধরনের চরিত্রে কাজ করিনি। একজন কর্মজীবী নারী, স্ত্রী এবং একই সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী একজন মানুষের মানসিক টানাপোড়েন তুলে ধরা সহজ ছিল না। শুরুতে ভয় ছিল, দর্শক আমাকে এই চরিত্রে গ্রহণ করবেন কিনা। তবে এখন মনে হচ্ছে, সেই পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।

সম্প্রতি অপূর্বের সঙ্গে ‘একটাই প্রার্থনা’ ও ‘অচেনা আমি’ নাটকেও কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই আনন্দের। তিনি শুধু একজন ভালো অভিনেতাই নন, একজন অসাধারণ সহশিল্পীও। শুটিংয়ের সময় নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাই। ‘অচেনা আমি’ নাটকের গল্প যখন তিনি আমাকে শুনিয়েছিলেন, আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প লেখার ক্ষেত্রেও তাঁর দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
দর্শকদের অনেকেই বলছেন, অপূর্ব-নীহা জুটি এখন আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আপনি কী মনে করেন?
এটা অবশ্যই আনন্দের বিষয়। একজন অভিনেত্রীর জন্য দর্শকের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় অর্জন। আমরা চেষ্টা করি গল্পের প্রতি সৎ থাকতে। যদি দর্শক আমাদের জুটিকে পছন্দ করে থাকেন, তাহলে সেটি আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা। সামনে আমাদের জুটি থেকে আরও কিছু ভালো কাজ উপহার পাবেন দর্শক।

সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব কি পাচ্ছেন?
হ্যাঁ, কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছি। অনেক গল্পও শুনিয়েছেন। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আমি মনে করি, নিজেকে আরও প্রস্তুত করা দরকার। আমার ক্যারিয়ার খুব বেশি দিনের নয়। ছোট পর্দায় এখনও অনেক কিছু শেখার আছে। যখন মনে হবে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত, তখন বড় পর্দা নিয়ে ভাবব।
তাহলে কি শিগগিরই আপনাকে সিনেমায় দেখা যাবে না?
ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র এবং সঠিক সময়– এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মিললে অবশ্যই বিবেচনা করব। তবে তাড়াহুড়ো করে কিছু করতে চাই না।
নাটকে আপনার অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি কী বলে মনে করেন?
আমি সব সময় চরিত্রটাকে বোঝার চেষ্টা করি। শুধু সংলাপ মুখস্থ করলেই অভিনয় হয় না। চরিত্রটি কী ভাবছে, কী অনুভব করছে, কেন এমন আচরণ করছে– এসব নিয়ে কাজ করি। এই বিষয়টাই হয়তো আমাকে সাহায্য করে।

নিজের অভিনয় কি নিয়মিত দেখেন?
অবশ্যই। আমি নিজের কাজ বিশ্লেষণ করি। কোথায় ভুল হয়েছে, কোথায় আরও ভালো করা যেত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। একজন শিল্পীর শেখার তো শেষ নেই।
ব্যস্ততার বাইরে সময় কীভাবে কাটান?
পরিবারকে সময় দিতে খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই দেশ ও দেশের বাইরে ঘুরতে বের হই। প্রকৃতি আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে সবুজ পরিবেশ আর পাহাড় আমাকে ভীষণ টানে। তবে সমুদ্রও উপভোগ করি।
আপনার ভ্রমণপ্রীতি নিয়ে ভক্তদের অনেক আগ্রহ আছে। নতুন কোনো জায়গা দেখার ইচ্ছা আছে?
অনেক জায়গাই দেখতে চাই। পৃথিবীতে এত সুন্দর সুন্দর স্থান আছে! সুযোগ পেলে ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু জায়গা ঘুরতে চাই।
ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে। আপনার প্রিয় দল কোনটি?
ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। খেলা খুব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি না, কিন্তু মেসির খেলা দেখতে ভালো লাগে। এ কারণেই আর্জেন্টিনার প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা শুরু হয়েছে। ছাদে ছাদে উড়ছে পতাকা। প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি।
ভক্তদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?
দর্শকদের ভালোবাসা ছাড়া আমরা কিছুই নই। তারা যেভাবে আমার কাজগুলো গ্রহণ করছেন, তাতে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। সামনে আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আর বাংলা নাটকের পাশে থাকবেন।




