কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার সকালে একজনের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। আর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্য এবং সাভারের জোবায়ের বাবুর মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা কলকাতা থেকে বেনাপোল সীমান্তের পথে রওনা দিয়েছেন।
কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড থেকে শনিবার ভোরে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন। ভারতীয় সময় ভোর ৬টার দিকে রওনা হয়ে সকাল ১০টার মধ্যে সীমান্তের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার আরেক বাসিন্দা রেবতী সরকারের শেষকৃত্য শনিবার দিবাগত রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিমতলা শ্মশানঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়।
এদিকে শনিবার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটের দিকে পিস ওয়ার্ল্ড থেকে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার পরিবারের সদস্য আকরাম আলী (৭৪), আফসানা শারমীন (২৭) ও স্বর্ণাশীষ দত্ত (২) এবং সাভারের জোবায়ের বাবুর (৩৭) মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন।
স্বজনেরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে।
মরদেহগুলো নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশে ফেরার সময় পিস ওয়ার্ল্ডে উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ। এ সময় প্রথম সচিব (কনস্যুলার) মো. জিল্লুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) ওমর ফারুক আকন্দসহ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৯ আগস্ট কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।


