গাজামুখী ত্রাণবহরে গুলি, ইসরায়েলের হেফাজতে আটক ত্রাণকর্মীরা অনশন শুরু করেছেন ৮৭ জন

0
8

গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের একটি ত্রাণবাহী জাহাজের বহর আটকে দিয়েছে ইসরায়েল। জাহাজগুলো থেকে ৪৩০ জন ত্রাণকর্মীকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে তারা। এর আগে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র দুই জাহাজে গুলির অভিযোগ করেছেন নৌবহরের আয়োজকরা। ভিডিও ফুটেজেও গুলির দৃশ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার এএফপি জানায়, এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আটককৃতদের মধ্যে অন্তত ৮৭ জন অনশন শুরু করেছেন।

গত সপ্তাহে প্রায় ৫০টি জাহাজের এই বহর তুরস্কের একটি বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু সাইপ্রাসের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজগুলোর গতিরোধ করে এবং জাহাজে থাকা মানবাধিকারকর্মীদের আটক করে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক ৪৩০ জনকে জাহাজে করে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ত্রাণবাহী জাহাজ আটকের ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেছেন, গাজায় হামাসের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ঠেকানোর একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে।
ফ্লোটিলার আয়োজক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই দাবির বিরোধিতা করেছে। মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ বলছে, ত্রাণবহরে যাত্রীদের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জোর করে ইসরায়েলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের এই কার্যকলাপ গাজার মানুষকে অনাহারী রাখার নীতিরই অংশ।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, মানবাধিকারকর্মীদের জোর করে ধরে নেওয়া এবং ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির প্রতি সংহতি জানিয়ে বহরের ৮৭ জন কর্মী অনশন শুরু করছেন।

এই ঘটনার পর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিভিন্ন দেশ। তুরস্ক ও স্পেন এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া তাদের নাগরিক ও জাহাজগুলো দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ত্রাণবহরের সঙ্গে যুক্ত চারজন ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বোর্ড অব পিসে সৌদি আরবের অর্থায়ন নিশ্চিতের চেষ্টা

গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা ইসরায়েলি বাধায় আটকে যাওয়ার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বোর্ড অব পিসের জন্য সৌদি আরবের প্রতিশ্রুত ১০০ কোটি ডলার নিশ্চিত করতে রিয়াদ সফর করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এই বোর্ডে ইসরায়েলের পছন্দ করা ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দিয়ে গাজার উন্নয়নমূলক কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সৌদি আরব চাচ্ছে, এই বোর্ডে যেন ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন প্রতিনিধিত্ব থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র এই প্রকল্পে এক হাজার কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, পুরো পরিকল্পনাটির সাফল্য নির্ভর করছে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোর অর্থায়নের ওপর। কিন্তু গাজায় চলমান হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বের জটিলতার কারণে এই ফান্ডের কাজ বর্তমানে কিছুটা আটকে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here