হিমালয় অঞ্চলে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এ দুর্যোগে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, নতুন করে আরও ৮৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৩ হাজার ৯১৬ জন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৬৩৯ জনও রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে চীনের কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটিতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। ফলে দুই দেশের তথ্য অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ এবং নিখোঁজ ৪ হাজার ৪৬২ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৪৪।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে যায়। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে এবং তা দ্রুত ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হয়। পরে সেই স্রোত সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে নেমে এসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
নেপালে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম তিব্বত অঞ্চলের নেপাল সীমান্তের গিয়রং সীমান্তচৌকিও কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে।
নেপাল ও চীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক। দুই দেশের মধ্যে ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপাল মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দূর অনুধাবন প্রযুক্তি এবং দুর্যোগকবলিত এলাকা চিহ্নিত করতে ড্রোন চেয়েছে।
উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত বিভিন্ন দল পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, গিয়রং সীমান্তচৌকিতে পৌঁছাতে তাদের ১০ ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়েছে। সেখানে পৌঁছে তারা চীনের অংশে কোনো ভবন বা অন্যান্য অবকাঠামোর চিহ্নও দেখতে পাননি।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


