ভারতের পর এবার পাকিস্তানে প্রকাশ্যে এলো ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’

ভারতে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশটিতে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’, ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’ ও ‘মুত্তাহিদা তেলাপোকা মুভমেন্ট’-এর মতো একাধিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক অ্যাকাউন্ট দেখা যাচ্ছে।

ভারতের তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ এখন পাকিস্তানের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানে তৈরি হওয়া এসব অ্যাকাউন্টের বায়ো ও রাজনৈতিক স্লোগান ভারতের মূল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ধাঁচেই তৈরি। ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের বায়োতে লেখা হয়েছে, তরুণদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য। আরেকটি অ্যাকাউন্টে লেখা হয়েছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা যাদের তেলাপোকা ভেবেছে, আমরা সেই জনগণের কণ্ঠস্বর।

এসব পেজের লোগোও ভারতের ভাইরাল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে পাকিস্তানি সংস্করণগুলোতে সবুজ-সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশটির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কীভাবে শুরু হয়েছিল ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’?

ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।

গত ১৬ মে এই ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দলটির নিজস্ব ওয়েবসাইট, ম্যানিফেস্টো ও সংগঠিত অনলাইন প্রচারণাও রয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য থেকে বিতর্ক

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র জন্ম হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে তিনি বেকার তরুণ ও কিছু কর্মীকে ‘তেলাপোকা ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো। তাদের কোনো চাকরি নেই, পেশাতেও কোনো জায়গা নেই।

এই মন্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে পেশায় প্রবেশকারীদের বোঝাতে চেয়েছিলেন। তবে এর মধ্যেই ‘তেলাপোকা’ প্রতীক ব্যবহার করে তরুণদের ক্ষোভ, বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট ও রাজনৈতিক হতাশাকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরতে শুরু করে সিজেপি।

যদিও এটি আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তবুও ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে দুই কোটিরও বেশি অনুসারী সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিম, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, অ্যানিমেশন ও তরুণদের ভাষায় তৈরি কনটেন্টের কারণে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বেকারত্ব, পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে তাদের পোস্ট তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পাকিস্তানেও তরুণদের হতাশার প্রতিফলন?

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে ‘তেলাপোকা’ ব্র্যান্ডের দ্রুত বিস্তার শুধু একটি অনলাইন ট্রেন্ড নয় বরং এটি দেশটির তরুণদের রাজনৈতিক হতাশা, অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির প্রতি অনাস্থার প্রতিফলনও হতে পারে।

ভারতে যেমন ব্যঙ্গ ও মিমভিত্তিক ডিজিটাল আন্দোলন তরুণদের আকৃষ্ট করেছে, পাকিস্তানেও একই ধরনের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর