ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প ‘এখন আমাদের কিছুই নেই’

0
9

‘এখন আমাদের কাছে কিছুই নেই। এমনকি ওখানে ফিরে যাওয়ার মতো শক্তি ও সাহসও নেই। একবার কল্পনা করুন।’ ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর কাটিয়া লা মারেতে এক ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৪৯ বছর বছর বয়সী ল্যারি রোজাস। ওই ধ্বংসস্তূপে তাঁর পরিবারের সদস্যরা চাপা পড়েছেন।

জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা থেকে ধীরে ধীরে খবর বাইরে আসতে শুরু করেছে। দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা লোকজন এখনও রয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে। অনেকে আবার নিজে প্রাণে বাঁচলেও পড়েছেন তীব্র অসহায় পরিস্থিতির মুখে। এ রকমই এক নারীকে ভূমিকম্পের পর দেখা যায় এক ১২ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে।

তাঁর কাছে জানা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে তাঁর মেয়ে রয়েছে। তিনি সন্তানকে উদ্ধারের ও খবর পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে অসহায় কণ্ঠে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ভেতরে মানুষ বেঁচে আছে, কিন্তু তাদের বাঁচাতে কেউ আসছে না।

দেশটির বহু স্থানেই ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বহু ব্যক্তি। পাশাপাশি দেশটিতে অনেক জায়গায় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না মানুষ।

ভূমিকম্পের পর কারাকাসে রাস্তায় রাস্তায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গত বুধবার যখন ভূমিকম্প শুরু হয়, তখন কারাকাসের বাসিন্দা ভেরোনিকা ভেবেছিলেন, তিনি আর বাঁচবেন না। এদিন রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন থাকায় বহু মানুষই ছিলেন বাড়িতে। কারাকাসের আরেক বাসিন্দা মারিয়া আলেহান্দ্রা জানান, তিনি যখন বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই দেয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করে। কোনোরকমে দরজা খোলার পর তিনি দেখেন চারদিকে ধুলা; কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আলেহান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচতলায় গেলাম, তখন মনে হচ্ছিল ভৌতিক সিনেমার মতো দৃশ্য দেখছি। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। আমরা শুধু আর একটি পরিবারকে বের হতে দেখেছি।’

পূর্ব কারাকাসের কোরো মার্টিনেজ (৫৬) বলেন, ‘আমি কখনও এ রকম কিছু দেখিনি।’ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে ভূমিকম্পে তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো থেকে খবর সেভাবে বাইরে আসতে শুরু করেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here