প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের পর শুক্রবার মধ্যরাতে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও বার্তায় সাড়া দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিও বার্তায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলার আশ্বাসও দিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তার বক্তব্যে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ইতিবাচক সাড়া তাকে আনন্দিত করেছে। মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।
ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ।’ এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাসের চেষ্টা করা হবে।
এর আগে একই দিন প্রকাশিত আরেক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’
তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এ দিন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলটির দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে তাদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকার আমাদের কাছে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করি, শিগগির শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হবে অথবা তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন।’
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানের কয়েক দিন পর কেন্দ্র সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশিকে বদলি এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা থেকে ৪৭ জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা। এসব পদক্ষেপের পরও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের মূল দাবি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রশ্নে অনড় রয়েছেন। শুক্রবার সিজেপি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে একটি দাবিদাওয়া তুলে ধরে, যার মধ্যে ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থন থাকায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।




