যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত একটি হেভি-লিফট হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে দুজন আরোহী ছিলেন। একই সময়ে ওরেগনে দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজে নিয়োজিত এক বুলডোজার চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
উটাহর রিচফিল্ডের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। সল্টলেক সিটি থেকে প্রায় ১৬০ মাইল (২৫৮ কিলোমিটার) দক্ষিণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। হেলিকপ্টারটি মধ্য উটাহর একটি দাবানল নেভাতে নিয়োজিত সাতটি হেলিকপ্টারের একটি ছিল। গত ২৭ জুলাই বজ্রপাত থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়।
বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’। অগ্নিনির্বাপণের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত এই হেলিকপ্টারে পানি বা ফায়ার রিটার্ড্যান্ট বহনের ব্যবস্থা থাকে। দুর্ঘটনার সময় এটি খাড়া ভূ-প্রকৃতির একটি এলাকায় কাজ করছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারে থাকা দুজনের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তীব্র আগুনের কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর আশা করছেন কর্মকর্তারা।
দুর্ঘটনার পর দাবানল নেভানোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরে তা আবার শুরু করা হয়। হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্ত করবে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। তবে আশপাশে আগুন জ্বলতে থাকায় তদন্তকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।
এদিকে ওরেগনে ‘রাইটস স্প্রিং’ নামের একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় ৪৭ বছর বয়সী জেসন এনসাইন নামে এক বুলডোজার চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, আগুনটি অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়।
ওরেগনের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে চিলোকুইন শহরের পূর্বে বুধবার ওই দাবানলের সূত্রপাত হয়। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত আগুনটি প্রায় ১৪ বর্গমাইল বা ৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুনের আচরণ অনিয়মিত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। শুক্রবার দমকলকর্মীদের অনিয়মিত বাতাস, উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক ও দাহ্য উদ্ভিদ এবং বৃষ্টিহীন বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। এ কারণে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ সতর্কতা জারি করা হয়।
উটাহতে কানশের কাছে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টের দাবানলও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আগুনটি প্রায় ১৬৫ বর্গমাইল বা ৪২৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছে এবং মাত্র ১৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন নেভাতে ৬০০-এর বেশি দমকলকর্মী কাজ করছেন। আগুনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং অন্তত ছয়টি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া, তীব্র দাবদাহ, স্বাভাবিকের তুলনায় কম তুষারপাত এবং অনিয়মিত বাতাসের কারণে উটাহসহ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে এবার দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। গত জুনেও কলোরাডোর একটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে চার দমকলকর্মী নিহত ও একজন আহত হয়েছিলেন।




