ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমাবেন কীভাবে

ক্রিয়েটিনিন হলো এক ধরণের রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ যা আমাদের পেশি ব্যবহারের ফলে তৈরি হয়। প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলেও এই বর্জ্য পদার্থ তৈরি হতে পারে, তবে তা খুব সামান্য পরিমাণে। সাধারণত ক্রিয়েটিনিন কিডনিতে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানোর বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ‘হেলদিবিল্ডার্জডে’র এক প্রতিবেদনে।

প্রোটিন গ্রহণ কমান

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ক্রিয়েটিনিন-সমৃদ্ধ খাবার খান, তাদের শরীরে এর মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশি হতে পারে। আপনার খাদ্যতালিকায় যদি দুগ্ধজাত খাবার বা রান্না করা লাল মাংসের (রেড মিট) প্রাধান্য থাকে, তবে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর চেয়ে ভালো উপায় হলো শাকসবজি বা সবুজ শাকপাতা বেশি করে খাওয়া, কারণ এগুলো ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

অ্যাপল সিডার ভিনেগার
ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানোর আরেকটি উপায় হলো অ্যাপল সিডার ভিনেগার গ্রহণ। এর একটি কারণ হলো, এই ভিনেগারের অ্যাসিটিক বা অম্লীয় প্রকৃতি কিডনির পাথর দূর করতে সাহায্য করতে পারে। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক টেবিল চামচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করা। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর এটি পান করা উপকারী।

দারুচিনি
ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে দারুচিনি বেশ কার্যকর, কারণ এটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। আপনার পানীয়ের সাথে আধা থেকে এক চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পান করলেই হবে। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনে অন্তত একবার এটি পান করা উচিত।

ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া
ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানোর আরেকটি উপায় হলো ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খাওয়া। ফাইবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং একই সাথে পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পর্যাপ্ত ফাইবারযুক্ত খাবার খান, তাদের শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে।

কঠোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন

পেশির ক্রমাগত কাজের ফলে শরীরে ক্রিয়েটিনিন তৈরি হয়, তাই খুব কঠোর ব্যায়াম করলে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যদি আপনি ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমাতে চান, তবে ব্যায়ামের তীব্রতা বা মাত্রা কমিয়ে আনা জরুরি। এতে পেশি থেকে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ হ্রাস পাবে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর