অনেকেরই মাঝরাতে পেশিতে টান ধরে ঘুম ভেঙে যায়। পা সোজা করতেই পারেন না। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন পানি কম খেলেই এই সমস্যা হয়। ডিহাইড্রেশন ছাড়াও পেশিতে টান ধরার পিছনে আরও অন্য কারণ থাকতে পারে। কোন কোন কারণে পায়ের পেশিতে টান ধরে এবং টান ধরলে কী করা উচিত তা জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়ে’র এক প্রতিবেদনে।
যেসব কারণে পেশিতে টান ধরে
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রুদ্রজিৎ পাল জানান, পেশিতে আঘাত লাগলে অনেক সময়ে এই ধরনের সমস্যা হয়। তবে অনেক সময় কোনও রকম চোট-আঘাত ছাড়াই পেশিতে টান লাগে। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার সময়ে পায়ের পেশিতে সবচেয়ে টান ধরে। এর অন্যতম কারণ হলো ডিহাইড্রেশন।
ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল আরও জানান,শরীরে তরল ও খনিজের ঘাটতি তৈরি হলে পেশিতে টান ধরে। শরীরে তরলের পরিমাণ কমে গেলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন পেশির সঙ্কোচন এবং তা প্রসারিত হতে পারে না। এ ছাড়া ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো বিভিন্ন খনিজের ঘাটতি হলেও পেশিতে টান লাগে।
যাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি
ডা. রুদ্রজিতের মতে, যারা সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন, অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করেন, তদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া শরীরে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
রাতেই বেশি পায়ে টান ধরার কারণ
বিশ্রামের সময় শরীরের নিম্ন অংশে রক্ত চলাচল কমে যায়। তখন ওই অংশের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন বা খনিজ পৌঁছায় না। এই কারণেই অনেক সময়ে মাঝরাতে বা ঘুম ভাঙার সময়ে পায়ের পেশিতে টান ধরে। এ ছাড়া ডিহাইড্রেশনও অন্যতম কারণ।
টান ধরলে কী করবেন?
চিকিৎসক রুদ্রজিৎ বলেন, সাময়িক আরাম পেতে টান ধরার সময়ে মালিশ করতে পারেন। এ ছাড়া আইস প্যাক দিতে পারেন। বরফ সেঁক দিলে ওই অঞ্চলের পেশি শিথিল হয়। তার মতে, যাদের নিয়মিত এই ধরনের সমস্যা হয়, তাদের শরীরে ভিটামিন ও খনিজের মাত্রা যাচাইয়ের জন্য কিছু রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করলেও পেশিতে টান ধরার সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার খেতে হবে। শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের সাহায্য নিতে পারেন।




