হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখার সহজ উপায়

নারীদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওজন বেড়ে যাওয়া, সব সময় ক্লান্ত লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকের সমস্যা—এসব উপসর্গ অনেকেই অনুভব করেন, কিন্তু মূল কারণটি বুঝতে পারেন না।

বিশেষ করে পিসিওডি (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিস-অর্ডার)–এ ভোগা নারীরা হরমোনের সমস্যা নিয়ে বেশি লড়াই করেন। অনেক চেষ্টা করেও অনেকে সঠিক সমাধান পান না।

সম্প্রতি পিসিওডি ও গাট–হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. রানি রোশনি হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য চারটি সহজ কৌশল শেয়ার করেছেন। সেগুলো হচ্ছে—

 

ইনসুলিন ঠিক রাখা

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওডি থাকা নারীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এটি ঠিক রাখতে এই চিকিৎসক পরামর্শ দেন কার্বোহাইড্রেট বেশি, এমন খাবারের আগে হালকা গরম পানিতে সামান্য আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করতে।খাওয়ার পর ১০ মিনিট হাঁটাও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে।

কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ করা

কর্টিসল কমাতে ‘বক্স ব্রিদিং’ পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।

৪ সেকেন্ড শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন, ৪ সেকেন্ডে ছাড়ুন। এভাবে ২ মিনিট করলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়।

সকালে অন্তত ৫ মিনিট রোদে থাকা কর্টিসল লেভেল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করতে পারে।

মেলাটোনিন বাড়ানো

মেলাটোনিন শরীরকে ঘুমের দিকে নিয়ে যায় এবং বিশ্রামের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চালু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওএস থাকা নারীদের শরীরে মেলাটোনিনের মাত্রা কম থাকতে পারে, যার ফলে ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি ও মুড সুইং দেখা দেয়।

এটি ঠিক করতে ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন বন্ধ রাখা ভালো। গরম হলুদ দুধ বা ক্যামোমাইল চা পান শরীরকে ঘুমের সংকেত দেয়। আলো নিভিয়ে, ফোন দূরে রেখে প্রতিদিন একই রুটিন অনুসরণ করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন ঠিক রাখা

পিসিওএস থাকা নারীদের মধ্যে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়, যার ফলে অনিয়মিত মাসিক, মুখে অতিরিক্ত লোম, মেটাবলিক সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে।

প্রতিদিন এক টেবিল চামচ ফ্ল্যাক্সসিড দই বা স্মুদির সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ। পেট ফাঁপা কমাতে দিনে ২–৩ লিটার পানিতে এক চিমটি পিঙ্ক সল্ট মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। শক্তি বাড়াতে মন খারাপ বা দুর্বল লাগলে ২ মিনিট ওয়াল সিট বা স্কোয়াট করা উপকারী।

দীর্ঘমেয়াদে সিড সাইক্লিং অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথম ১৪ দিন ফ্ল্যাক্সসিড ও কুমড়ার বীজ, পরের ১৪ দিন সূর্যমুখী ও তিলের বীজ। পাশাপাশি স্ট্রেংথ ট্রেনিং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, প্লাস্টিকে খাবার গরম না করা এবং ধাতব পানির বোতল ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর