হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল করে দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস

অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে হাড়কে দুর্বল করে ফেলতে পারে। একজন ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করতে পারেন, অথচ ভেতরে ভেতরে তার হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এজন্য প্রায়ই হাড় ক্ষয়কে “নীরব” রোগ হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ হাড় না ভাঙা পর্যন্ত অনেক সময় এটি ধরাও পড়ে না।

যদিও হাড় ক্ষয় সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে তবে সারা জীবনের জীবনযাত্রার ধরন হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। অপুষ্টি, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অপর্যাপ্ত গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান—এসবই সময়ের সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমিয়ে দিতে পারে। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস কীভাবে হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল করে তা জানানো হয়েছে ‘ইন্ডিয়া টিভি’র  এক প্রতিবেদনে।

পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি না পাওয়া

হাড়ের শক্তি বজায় রাখার জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য, আর ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। খাদ্যাভ্যাস বা অন্য কোনো উৎস থেকে নিয়মিতভাবে এই পুষ্টি উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে না পেলে, তা সময়ের সাথে সাথে হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি-যুক্ত সুষম খাদ্যাভ্যাস হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তাদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া; নিজে থেকে কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।

দিনের বেশিরভাগ সময় বসে থাকা

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব হাড়ের শক্তি ও পেশির সক্ষমতা—উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে। হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত নড়াচড়া বা শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপ—হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে না থেকে মাঝে মাঝে নড়াচড়া করা বা হাঁটাচলা করাও শারীরিকভাবে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠার একটি কার্যকর উপায়।

শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলা

হাড় ও পেশি একে অপরের সাথে মিলে শরীরের নড়াচড়া ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পেশির ভর বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামগুলো পেশির সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং হাড়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

ধূমপান

ধূমপানের সাথে হাড়ের দুর্বল স্বাস্থ্য এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এর প্রভাব হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না, তবে দীর্ঘস্থায়ী ধূমপান হাড়ের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয়ের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

অত্যন্ত সীমিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা

খুব বেশি সীমিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পায় না, যা হাড় ও পেশির সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। হাড়ের শক্তি বজায় রাখার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।

অস্টিওপরোসিসের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ সাধারণত চোখে পড়ে না। ব্যথা না থাকা মানেই যে হাড় মজবুত, তা কিন্তু নয়। যাদের ক্ষেত্রে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি রয়েছে—যেমন বয়স বেড়ে যাওয়া, পরিবারে অস্টিওপরোসিসের ইতিহাস থাকা, অতীতে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা, দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন করা বা শরীরে বড় ধরনের হরমোনজনিত পরিবর্তন—তাদের হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে হাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন
হাড় ভাঙার মতো ঘটনা ঘটার অনেক আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং হাড়ের ওপর চাপ পড়ে এমন ব্যায়াম ও শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা—এসবই হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান বর্জন করা এবং অ্যালকোহল পান সীমিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া পেশির শক্তি ও শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর