বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন ঘিরে নতুন যাত্রা

বিশ্ব বাস্তবতার মধ্যে নিজেদের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে বিশেষ অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

বিশেষ এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।

এ জন্য চারটি ক্ষেত্রে কাজ করা হবে বলে যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়। সেগুলো হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে যৌথ ঘোষণায়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে এ শীর্ষ বৈঠক হলো। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠক শেষে নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

পোস্টে তাকাইচি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আনন্দিত। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেবে।

অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি
জাপান সরকারের প্রস্তাবিত বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে একটি বৃহৎ লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিটি দেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এ দুই নেতা।

তৃতীয় টার্মিনাল, এমআরটি ও বন্দর যোগাযোগ
আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন। তারা ঢাকায় এমআরটি লাইনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার কথাও বলেছেন। তারা আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার ও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সমঝোতা স্মারক সই
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাকাইচি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগ সহজ করতে কর, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ পাঠানো ও লাইসেন্স দেওয়ার মতো কার্যক্রমে নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বাড়াতে জাপানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো এবং অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশের শিল্প খাতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য রয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম উত্তরণে এ চুক্তি সহায়তা করবে বলে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতেও জাপান আগ্রহী।

বাণিজ্য চুক্তি ও শিল্পের বহুমুখীকরণ
জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান দুই নেতা। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকারও তারা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। এতে এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম হবে। তাকাইচি বলেন, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ নিয়ে আরও আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে জাপান।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহযোগিতা
জাপানের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এটিই জাপানের প্রথম ইয়েন ঋণ প্রকল্প।

ডিজিটাল রূপান্তর ও দক্ষ জনশক্তি
দ্বিপক্ষীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল রূপান্তর, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন আইসিটি পেশাজীবী তৈরি এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধানের গুরুত্ব স্বীকার করেন দুই নেতা। মানবসম্পদের উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতেও তারা একমত হন।

প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা
ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং কার্যকর হওয়াকে তারা স্বাগত জানান। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় আরও অগ্রগতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি দেন তাকাইচি। তিনি প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল ও বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে জাপানের অঙ্গীকার জানান। জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় একটি টহল জাহাজ এবং সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহল নৌযান দেওয়ার বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মিয়ানমার সংকট
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি, এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাগত প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং রোহিঙ্গাসহ সব পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংলাপের আহ্বান জানান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে তাকাইচি তাদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি জাপানের সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।
রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়েই এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব বলে দুই নেতা একমত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী। অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সব জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্ব দেন। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যের জন্য লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করেন দুই নেতা।

তারা বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সামুদ্রিক কর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। দুই নেতা গাজা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসহ ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত, স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের বন্ধুত্ব হবে সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দিতে হবে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী প্রমুখ।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর