পঞ্জিকার পাতায় আষাঢ়ের প্রথম দিন আসতে এখনও চার দিন বাকি। এরই মধ্যে দেশের তিন বিভাগে পৌঁছে গেছে মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এটি সারাদেশে বিস্তার লাভ করতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সময়ে দেশের পাঁচ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বায়ু এখনও সারাদেশে পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। তবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এটি মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটবে এবং বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে আগামী ১৩ জুনের মধ্যে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, স্থানভেদে পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়তে পারে এবং ১১ জুনের মধ্যে সিলেট জেলায় এসব নদীতে পানি সতর্কসীমা বা বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিসমতলও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, আষাঢ় মাস শুরুর আগেই দেশে বর্ষার প্রভাব জোরালো হতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত আরও বাড়লে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও সাময়িক প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।




