রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল একটি ফলের রাজ্য। সেখানে ঢুকতেই স্বাগত জানায় পানিতে ভাসমান বিশাল এক পদ্মফুল; যা কোনো সাধারণ পদ্ম নয়, নানা রঙ ও আকৃতির ফল দিয়ে সাজানো এক শিল্পকর্ম। এরপর কাঁঠাল, ড্রাগন, ডেউয়া, কামরাঙা, সফেদা, জাম্বুরা, গোলপাতার ফল, বিলাতি গাব, নারকেল ও বেলের সমাহার দর্শনার্থীদের চেনাল দেশের ফলের ভাণ্ডারের সঙ্গে।
তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার শেষ দিন গতকাল শনিবার কেআইবি প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে কেউ ফল কেনেন, কেউ ছবি তোলেন। কেউ শিশুদের সঙ্গে ফলের পরিচয় করিয়ে দেন।
এবারের মেলায় প্রায় ৭৮টি স্টল অংশ নেয় । শত রকম ফলের সমাহার থাকলেও মেলায় আমের ম-ম গন্ধে মাতোয়ারা হয়েছিলেন দর্শনার্থীরা। ল্যাংড়া, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, ফজলি, নাগফজলি, গোপালভোগ, আশ্বিনা জাতের আম ছিল স্টলে স্টলে। আরও ছিল কোহিতুর, জাপানের মিয়াজাকি, আমেরিকান রেড পালমার, থাই কাটিমন, মহাচানক, আলফানসো, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ব্রুনাই কিং ও কিং অব চাকাপাতের মতো বিদেশি জাত ও উচ্চমূল্যের আম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টলেই ছিল ৫৪ জাতের আম।
মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ফল কিনতে আসা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা এই মেলায় আসি। এখানে ফলের দামও অনেক ক্ষেত্রে বাজারের তুলনায় কম। সবচেয়ে বড় কথা, এক জায়গায় এত রকম ফল দেখা যায়।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারের আয়োজনকে ‘সবচেয়ে সফল’ বলে জানালেন মেলার আয়োজক ও বিক্রেতারা। সোলেমানপুর কৃষিপণ্য সংগ্রহ বিপণন কেন্দ্রের আহসান হাবিব রাব্বি বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থী সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বিক্রিও ভালো হয়েছে।’
রপ্তানিযোগ্য আম নিয়ে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘বিদেশে পাঠানো হয় এমন প্রায় সব জাতের আমই তারা প্রদর্শন করেছেন।’ অন্যদিকে, কয়েক টন আম নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া বিক্রেতা মুজিবর রহমান জানান, প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার আম বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
ফল মেলার চমকপ্রদ দিক ছিল ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনী। বাংলাদেশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে ছিল জাতীয় ফল কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, বার্গার, রুটি, জালি কাবাব, কাঠি কাবাব, চিপস, সমুচা, শিঙাড়া, পাকোড়া, পাটিসাপটা, কাটলেট, কাপকেক ও পেস্ট্রি। কাঁঠালের বীজ দিয়ে তৈরি করা হয় বরফি ও চিপস। পাশাপাশি ছিল কাঁঠালের হালুয়া, পুডিং ও আচার।
একটি স্টলে ১০ টাকায় কাঁঠালের জালি কাবাব চেখে দেখছিলেন দর্শনার্থীরা। পাশেই কাঁঠালের শিঙাড়া, সমুচা, চিজবল ও কাটলেট তৈরি করে
বিক্রি করছিলেন উদ্যোক্তারা। এক সময় শুধু
মৌসুমি ফল হয়ে থাকা কাঁঠাল এখন নতুন শিল্প ও রপ্তানি সম্ভাবনার দ্বার খুলছে– এ বার্তা জানিয়ে দিল ফল মেলা।




