তিন বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

0
4

দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার এক সতর্ক বার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ ছাড়া উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান ও হাওর এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান বলেন, আগের দিন পাঁচটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকাল সোমবার দুটি নদীর পানি নিচে নেমে যায়।

গতকাল সুনামগঞ্জের নালজুর নদী, নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদী ও মগরা নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে ভুগাই-কংস ও সুতাং নদীর পানি কমেছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুই দিন সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানি কমতে পারে। এতে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের হাওর-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। তবে ১৫ মে পরবর্তী সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদনদীর পানি নতুন করে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কেন্দ্র।
বৈশাখের শেষভাগে আকস্মিক বৃষ্টিতে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। স্বল্প সময়ের এই বৃষ্টিতে পথচারী, অফিসগামী মানুষ, হকার ও দোকানিরা দুর্ভোগে পড়েন। তবে একই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির খবর দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর মাইজদীতে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, প্রাক-মৌসুমে স্থানীয়ভাবে বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে দ্রুত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ ধরনের স্বল্পস্থায়ী আবহাওয়া পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে নির্ভুলভাবে ধরা কঠিন। তবে আগামী ১৪ মের পরবর্তী সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here